যেখানে যান, সেখানে ইতিহাস—মেসির পরিসংখ্যান বলে সবকিছু

মেসি কেবল খেলোয়াড় নয়, তিনি এক চলন্ত রেকর্ড। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসে এমএলএসে যাত্রা শুরু করার পরই তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তার উপস্থিতি যে কোনো ক্লাবের ইতিহাসকে বদলে দিতে পারে। ইন্টার মায়ামির জন্য ২০২৫ সালের এই সিজন ছিল আলাদা। ঘরের মাঠ চেজ স্টেডিয়ামে ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ জেতানো, মেসির ক্যারিয়ারের ৪৮তম শিরোপা হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখা হলো।

ম্যাচ শুরু থেকেই দেখানো হলো মায়ামির শক্তি। মাত্র ৮ মিনিটে তাদেও আলেন্দের শট প্রতিহত করতে গিয়ে ভ্যাঙ্কুভারের এডিয়ের ওকাম্পো বল নিজের জালে পাঠান। এই আত্মঘাতী গোল মায়ামিকে দ্রুত সুবিধা দিল। তবে প্রতিপক্ষও সমাধান খুঁজছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ৬০ মিনিটে আলি আহমেদের দূরপাল্লার শটে গোল করে ভ্যাঙ্কুভার সমতা ফিরিয়ে আনে।

তবে যখন সমতা ফেরে, তখনই মেসির আসল দক্ষতা ফুটে ওঠে। ৭১ মিনিটে প্রতিপক্ষের অর্ধে বল নিয়ে রদ্রিগো দে পলের উদ্দেশ্যে এক নিখুঁত পাস দেন। দে পল হেডার গোল করে মায়ামিকে আবার এগিয়ে দেন। এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্তেও—যোগ করা সময়ের ৯৬তম মিনিটে—মেসি আবারও জাদু দেখান। তার সঠিক পাস থেকে আলেন্দে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন।

এই দুটি অ্যাসিস্ট শুধু গোলের দিকে প্রভাব ফেলেনি; পুরো দলের খেলাকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। মেসির উপস্থিতি, তার দৃষ্টিকোণ, এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো দেখাচ্ছে যে, এক খেলোয়াড় কিভাবে পুরো ক্লাবের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।

মেসির এই জয়ে তিনি কেবল এমএলএস কাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হননি, বরং তার ক্যারিয়ারের মোট ট্রফি সংখ্যা এখন ৪৮। এটি কেবল সংখ্যার খেলা নয়, বরং ফুটবলের ইতিহাসের সঙ্গে তার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের প্রমাণ। এমনই একটি রাত যেখানে দর্শক, ক্লাব, এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল কমিউনিটি একযোগে অভিভূত হয়েছিলেন।

মেসির দক্ষতা শুধু গোল বা পাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ম্যাচের প্রতি প্রভাব, খেলোয়াড়দের সাথে সমন্বয়, এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ—সবকিছু মিলিয়ে তাকে ‘লাইভ লেজেন্ড’ করে তোলে। এই পারফরম্যান্স শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং ইতিহাসের একটি অধ্যায় যা ফুটবলপ্রেমীরা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন।

মেসির এই রেকর্ড কেবল ইন্টার মায়ামির জন্য নয়, বরং পুরো এমএলএসের জন্য এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। যে ক্লাবের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন এক খেলোয়াড়, তার নাম লিওনেল মেসি।