যুবদল নেতা হত্যা মামলায় তদন্ত আরও জোরালো

যুবদল নেতা আরিফ সিকদার হত্যা মামলায় তদন্ত আরও জোরালো হলো আদালতের সাম্প্রতিক আদেশের মাধ্যমে। আলোচিত এই মামলায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই রিমান্ড হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তুজা ইবনে ইসলাম আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মো. মাজহারুল ইসলাম খাদিজা ইয়াসমিন বিথীর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে গত মঙ্গলবার মামলার মূল নথি আদালতে উপস্থাপন করা না হওয়ায় সেদিন রিমান্ড শুনানি হয়নি এবং খাদিজাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নথি দাখিলের পর বৃহস্পতিবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জানায়, মামলার তদন্তে খাদিজার ভূমিকা স্পষ্টভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করে। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে খাদিজাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও তার মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে মগবাজার ও হাতিরঝিল এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা আরিফ সিকদারকে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেন। অভিযোগে বলা হয়, সুব্রত বাইন ও খাদিজার প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ও পরিকল্পনার ফলেই আরিফকে হত্যা করা হয়। তদন্তে খাদিজার সম্পৃক্ততার বিষয়ে একাধিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আরিফ সিকদার ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের সহক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। গত ১৯ এপ্রিল রাতে হাতিরঝিল থানাধীন দি ঝিল ক্যাফের সামনে তাকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২১ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এই ঘটনায় আরিফের বোন রিমা আক্তার বাদী হয়ে সুব্রত বাইনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আরিফের মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। মামলার তদন্তে এরই মধ্যে সুব্রত বাইনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে কুষ্টিয়া শহর থেকে সুব্রত বাইনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সর্বশেষ গত সোমবার কুমিল্লা থেকে র‍্যাব খাদিজা ইয়াসমিন বিথীকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, অর্থের উৎস, সহযোগী নেটওয়ার্ক এবং ভবিষ্যৎ অপরাধ পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে, যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।