যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ ছয় সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাত যখন চূড়ান্ত রূপ নেওয়ার পথে, তখন বিশ্ব এক ভয়াবহ বিস্ফোরণমুখী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টায় একদিকে চলছিল তীব্র সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে চলছিল গোপন ও প্রকাশ্য কূটনৈতিক আলোচনা—যার ফলাফল শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের বিস্তার থামিয়ে দেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলেন ধারাবাহিক কঠোর ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নৌচলাচল স্বাভাবিক না হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এমনকি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ারও ইঙ্গিত দেন। তার ভাষায় এমন মন্তব্য ছিল, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং অনেক বিশ্লেষক একে যুদ্ধাপরাধের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য হিসেবেও অভিহিত করেন।
এর আগের দিনও তিনি ইরানকে ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে “পুরনো যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার” হুমকি দেন। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, তেল ও জ্বালানির দামে দ্রুত পরিবর্তন আসে এবং বিভিন্ন দেশ পারমাণবিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ সময় উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ উচ্চ সতর্কতা জারি করে।
পরিস্থিতির মধ্যেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নিয়ে ভোট হয়। বেশিরভাগ দেশ সমর্থন দিলেও দুই স্থায়ী সদস্য প্রস্তাবের বিরোধিতা করে, ফলে তা পাস হয়নি। তাদের যুক্তি ছিল, প্রস্তাবটি একপাক্ষিক এবং চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ন্যায়সঙ্গত নয়।
পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে, তখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। শেষ মুহূর্তে আলোচনায় অগ্রগতি আসে এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হয়। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দেড় ঘণ্টারও কম সময় আগে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়।
নিচের সারণিতে সেই দিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| সময় (গ্রিনিচ মান সময়) | ঘটনা |
|---|---|
| দুপুর ১২:০৬ | ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের কঠোর হুঁশিয়ারি |
| বিকেল ৩:২১ | ইরানের একটি দ্বীপে হামলার দাবি |
| বিকেল ৩:৪০ | হরমুজ প্রণালি নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রস্তাবে ভেটো |
| বিকেল ৪:৫৪ | উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা |
| সন্ধ্যা ৭:১৭ | কূটনৈতিক সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ |
| রাত ৮:২৫ | আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে হুমকি |
| রাত ১০:৪৫ | দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা |
পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিত দেন যে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নতুন “শান্তির যুগ” সূচনা করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
যদিও পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিতে আসে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর এবং পরবর্তী আলোচনা না হলে উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে।
