যুক্তরাষ্ট্র চায়, বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে নেতা নির্বাচন করুক।দোসরা অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না এবং নির্বাচনের ফলাফলকেও প্রভাবিত করতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্র চায়, বাংলাদেশের জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের নেতা নির্বাচন করতে পারে।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ উপায়ে অনুষ্ঠিত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। বাংলাদেশিরাও এটি চান। এ লক্ষ্যেই ভিসানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের সরকার, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যম- সবাই অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রেরও এটিই চাওয়া বলে জানান মিলার।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে নেতা নির্বাচন করুক
গত ২৪শে মে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ একটি ভিসা নীতি ঘোষণা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপর গত ২২শে সেপ্টেম্বর ম্যাথিউ মিলার এক বিবৃতিতে জানান, বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন ছাড়াও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে ওই ব্রিফিংয়ের বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে এক সাংবাদিক ম্যাথিউ মিলারের কাছে বাংলাদেশে গণমাধ্যমকর্মী বা সাংবাদিকদের ওপর ভিসা নীতি কার্যকরের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের একটি বিবৃতি সম্পর্কে জানতে চান। তিনি দাবি করেন, বিরোধী নেতাদের পাশাপাশি বাংলাদেশকে তালিবান-স্টাইলের ভূমিকার পক্ষে থাকা কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলো ইতোমধ্যেই মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের হুমকি দিচ্ছে, এমনকি উগ্র মতবাদের সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের তালিকাও প্রচার করছে। অন্যদিকে, নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মী, যুদ্ধাপরাধ বিরোধী কর্মী, সম্পাদক, সাংবাদিক, লেখক, সংখ্যালঘু নেতারা গণমাধ্যমে সম্ভাব্য ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের বিবৃতিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি অবমাননা হিসাবে দাবি করেছেন। আপনি কি রাষ্ট্রদূতের বিবৃতিকে সমর্থন করেন এবং ধর্মনিরপেক্ষ জাতিকে সমর্থনকারী এত বড় উদারপন্থি গোষ্ঠীর উদ্বেগকে সরাসরি অস্বীকার করেন?
জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমি গত সপ্তাহে যা বলেছিলাম তা একটু ভিন্ন ভাষায় আবারও বলি। বাংলাদেশিরা নিজেরাই যা চায় যুক্তরাষ্ট্রও সেটিই চায়: আর তা হচ্ছে- অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের সরকার, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং মিডিয়া সকলেই তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হোক ঠিক যেমনটা আমরাও চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের নীতি ঘোষণা করেছি তা এই উদ্দেশ্য এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনভাবে তাদের নেতা নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে। এবং আমি শুধু বলব যুক্তরাষ্ট্র কোনও বিশেষ দলকে সমর্থন করে না এবং নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে চায় না। বাংলাদেশের জনগণ যেন স্বাধীনভাবে তাদের নেতাদের নির্বাচন করতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র এটাই নিশ্চিত করতে চায়।