যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সমাধানে ভারতকেই চায় ইরান

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভারতের প্রতি আস্থা রেখেছে। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ ফাতাহি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভারত বিশ্বস্ত, কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

নয়াদিল্লিতে ইরানের দূতাবাসে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মোহাম্মাদ ফাতাহি বলেন, “যুদ্ধ হচ্ছে তিন দেশের মধ্যে—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরান। এই তিন দেশের সঙ্গেই ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং ভারত এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নির্ভরযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ভারত দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তার পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে। সংলাপ ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেয়ার ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ।”

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে প্রভাবিত হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চাইছে। এ জন্য প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে নিয়োজিত করা হয়েছে। মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামাবাদের মাধ্যমে তেহরানে পাঠিয়েছেন ১৫ দফা বিশিষ্ট একটি প্রস্তাবনা।

তবে যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া চলাকালীন ইরান ভারতের মধ্যস্থতাকারী সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিদ্যমান। ইরান আশা করছে, ভারসাম্যপূর্ণ নীতি ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে ভারতের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা সংঘর্ষ শিথিল করতে সহায়ক হবে।

মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রভাব

বিষয়বিবরণ
যুদ্ধে যুক্ত দেশইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক প্রভাবজ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত, বাজারে উদ্বেগ
প্রস্তাবিত মধ্যস্থতাকারীপাকিস্তান (প্রধান), ভারত (সংযুক্ত ভূমিকায়)
ভারতীয় ভূমিকাসূত্রসংলাপ উৎসাহিত করা, কূটনীতির মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাস
যুদ্ধ শুরু২৮ ফেব্রুয়ারি

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা শুধু রাজনৈতিক নয়, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে যুদ্ধ কমানোর ক্ষেত্রে ভারত দক্ষিণ এশিয়ার ভারসাম্য রক্ষা ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে সক্ষম।

সার্বিকভাবে বলা যায়, ভারতের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাকে ইরান শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এভাবে ইরান ভারতের প্রতি আস্থা রাখার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক কাঠামো ও বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করতে চাচ্ছে।