ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার ফলে ইরানজুড়ে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯,৭৩৪টি বেসামরিক স্থাপনা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, স্কুল এবং ত্রাণ সহায়তা কেন্দ্র। রেড ক্রিসেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৭টি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া সংস্থার নিজস্ব ১৬টি কার্যক্রম কেন্দ্রও গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা প্রদানের কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।
সংস্থার কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্বাসন ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু না হলে সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রায় ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হবে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকছে।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার পরিসংখ্যান
| ধরণ | ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা |
|---|---|
| আবাসিক ভবন | ১৯,৫৭৬ |
| চিকিৎসাকেন্দ্র | ৭৭ |
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | ৬৫ |
| রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রম কেন্দ্র | ১৬ |
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা শুধু পদার্থিক ক্ষতি সৃষ্টি করে না, বরং জনজীবন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও স্কুলের ক্ষয়ক্ষতি স্থানীয় মানুষের জীবনমানকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার পুনঃনির্মাণ এবং জরুরি মেরামতের জন্য বিশেষ তহবিল বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জরুরি ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। সংস্থা আরও জানিয়েছে, পুনর্বাসন কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে, যাতে ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায়।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলেছে, হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং শীঘ্রই কার্যকর সহায়তা ছাড়া অবস্থা আরও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। সংস্থার এই আহ্বান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহযোগিতার জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ দ্রুত সহায়তা পায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের শহরগুলোতে বেসামরিক জনজীবন বিপন্ন অবস্থায় পড়েছে, এবং জরুরি পুনর্বাসন ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি তৎপর রয়েছে।
