যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং ইরানের পাল্টা জবাবের পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের সর্বশেষ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এড়িয়ে চলতে কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার ইউ-টার্ন করেছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত এই নৌপথে শনিবার বিকেল থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ জাহাজ চলাচল কমে গেছে বলে জানিয়েছে কেপলার।
কেপলারের জ্যেষ্ঠ ঝুঁকি বিশ্লেষক দিমিত্রিস আমপাটজিদিস সিএনএনকে জানান, সমন্বিত বিশ্ব সময় (ইউটিসি) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম সকাল ১০টা ৩০ মিনিট) থেকে “এলাকার অধিকাংশ জাহাজ হয় ইউ-টার্ন করেছে, নয়তো অপেক্ষমাণ অবস্থায় ছিল, অথবা প্রণালির বাইরে বিকল্প রুটে সরে গেছে।”
কেপলারের জ্যেষ্ঠ অপরিশোধিত তেল ব্যবস্থাপক ইমানুয়েল বেল্লোস্ত্রিনো সিএনএনকে বলেন, শনিবার অন্তত চারটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এবং ইরানের পাল্টা জবাবের প্রেক্ষাপটে উপসাগর থেকে ফিরে গেছে। এসব জাহাজে মোট প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল তেল বহনের সক্ষমতা রয়েছে। জাহাজগুলো অরবিটার, ইউনিভার্সাল ভিক্টর, মিতাকে এবং ত্রিকওং ভেঞ্চার কোম্পানির।
এদিকে, ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) শনিবার বিকেলে জানায়, আরব উপসাগরে চলাচলরত একাধিক জাহাজ দাবি করেছে যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ইউকেএমটিও সতর্ক করে বলেছে, তারা স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
ইউকেএমটিও আরও জানায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দেশ বা সামরিক বাহিনী যদি সতর্কতামূলক অঞ্চল ঘোষণা করে তবুও জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলের অধিকার বজায় রাখে।
মার্কিন পরিবহন বিভাগ জাহাজগুলোকে সম্ভব হলে হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর এলাকার কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আগেই সতর্ক করে বলেছিল— “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন এবং ইরানের পাল্টা জবাবের কারণে প্রণালির আশপাশের পরিবেশ বর্তমানে অনিরাপদ। এ মুহূর্তে প্রণালি দিয়ে চলাচল করা নিরাপদ নয়।”
