যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বৃদ্ধির দায় ট্রাম্পের উপর:সিনেটর চাক শুমার

যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসেরও কম সময়ে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার। দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে শুমার উল্লেখ করেন, “এক মাস আগে দেশে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল ২.৯৩ ডলার। বর্তমানে তা ৩.৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতির জন্য কেবল একজন মানুষই দায়ী, আর তিনি হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।”

ডেমোক্রেটিক দলের এই বরিষ্ঠ নেতা শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। শুমার একাধিকবার দাবি করেছেন, এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ শুধু অর্থের অপচয় নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির কারণও হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ স্থগিত ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযান ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সরাসরি আন্তর্জাতিক তেলবাজারকে প্রভাবিত করছে। যুদ্ধ-সঙ্কটে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক এক মাসের তেলের মূল্য পরিবর্তন তুলে ধরা হলো:

সময়কালগ্যাসোলিন গড় দাম (প্রতি গ্যালন)পরিবর্তন (%)
এক মাস আগে$2.93
বর্তমান$3.94+34.5%*

*শুমার ও বিশ্লেষকরা যুক্তি দেন যে, কিছু অঞ্চলে খুচরা ও পাইকারী বাজারের ওঠানামার কারণে কার্যত দাম বৃদ্ধির প্রভাব ৭৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

শুমার আরও জানিয়েছেন, এই অনর্থক সামরিক অভিযান পরিচালনার ফলে রাষ্ট্রীয় বাজেটের হাজার হাজার কোটি ডলার অপচয় হচ্ছে। এ ধরনের খরচ শুধু অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে না, বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগও সীমিত করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নীতিমালার সঙ্গেই এ ধরনের তেলমূল্য বৃদ্ধি জড়িত। রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব অনুভব করছে। আগামী কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা তেলের মূল্যকে আরও প্রভাবিত করতে পারে।

সংক্ষেপে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মূল্যবৃদ্ধি কেবল অর্থনৈতিক নয়, এটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ফলাফল হিসেবেও দেখা হচ্ছে, এবং এর প্রভাব সরাসরি নাগরিকদের জীবনে পড়ছে।