যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা মূলত কর্তৃত্ববাদী শাসন, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ইরান যুদ্ধের পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানাতে একত্রিত হন। এক বছরের কম সময়ে এটি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বৃহৎ প্রতিবাদ।
বিক্ষোভটি ‘নো কিংস’ কর্মসূচির আওতায় আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩,৩০০টির বেশি স্থানে অন্তত ৮০ লাখ মানুষ অংশ নেন। তবে সরকারি কর্তৃপক্ষ জাতীয় পর্যায়ে কোনো আনুমানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিক্ষোভের চিত্র
নিউইয়র্ক শহরে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হন। সেখানে ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক এবং অস্কারজয়ী অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো উপস্থিত ছিলেন। তিনি ট্রাম্পকে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন।
আটলান্টা, সান দিয়েগো, লস এঞ্জেলেস এবং শিকাগোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দিনের শেষে আলাস্কার বাসিন্দারাও এতে যোগ দেন। আটলান্টার সমাবেশে মার্ক ম্যাককাহি বলেন, “জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো দেশ শাসিত হতে পারে না। আমাদের সংবিধান নানাভাবে হুমকির মুখে। পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক নয়। অনেক কিছু ঠিকঠাক চলছে না।”
ওয়াশিংটন ডিসিতেও কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী সমবেত হন। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার দাবি এবং ফ্যাসিবাদ রোধের আহ্বান। ৬৭ বছর বয়সী রবার্ট পাভোসেভিচ বলেন, “ট্রাম্প একের পর এক মিথ্যা বলছেন, অথচ কেউ কিছু বলছে না। আমেরিকানরা বর্তমানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে আছে।”
অঙ্গরাজ্যভিত্তিক বিক্ষোভ সংক্ষিপ্ত তালিকা
| অঙ্গরাজ্য | শহর | অংশগ্রহণকারী সংখ্যা | মূল দাবিসমূহ |
|---|---|---|---|
| নিউইয়র্ক | নিউইয়র্ক সিটি | কয়েক হাজার | ট্রাম্পের নীতি, ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদ |
| জর্জিয়া | আটলান্টা | প্রায় কয়েক হাজার | সংবিধান রক্ষা, ফ্যাসিবাদ বিরোধী |
| ক্যালিফোর্নিয়া | সান দিয়েগো | কয়েক শত | অভিবাসন নীতি, স্বাধীনতা রক্ষা |
| আলাস্কা | আঙ্কোরেজ | কয়েক শত | ইরান যুদ্ধের পরিকল্পনার প্রতিবাদ |
| ওয়াশিংটন ডিসি | ওয়াশিংটন ডিসি | কয়েক হাজার | ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার দাবি, ফ্যাসিবাদ বিরোধী |
বিক্ষোভগুলো প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলি জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের বৃহৎ জনসমাবেশ রাজনৈতিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সঙ্গে, এই বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকারের রক্ষার প্রচেষ্টা এবং জনমতের শক্তি প্রদর্শনের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং নীতির ওপর এই ধরনের প্রতিবাদ কতটা প্রভাব ফেলবে তা নজরদারি করার বিষয়।
