যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে। শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউস ও সংশ্লিষ্ট অভিবাসন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন কয়েক হাজার অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের (ইউএসসিআইএস) পরিচালক জোসেফ এডলো জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেক বিদেশি নাগরিককে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বোচ্চ স্তরে পুনরায় যাচাই-বাছাই বা ‘স্ক্রিনিং’ নিশ্চিত করা না যাচ্ছে, ততক্ষণ নতুন কোনো আশ্রয় সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ বা মঞ্জুর করা হবে না। মূলত গত বুধবার হোয়াইট হাউসের কাছে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ২০ বছর বয়সী বিশেষজ্ঞ সারাহ বেকস্ট্রম ও ২৪ বছর বয়সী স্টাফ সার্জেন্ট অ্যান্ড্রু উলফের ওপর অতর্কিত হামলার পর এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। হামলায় সারাহ বেকস্ট্রম নিহত হয়েছেন এবং অ্যান্ড্রু উলফ এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
অভিযুক্ত হামলাকারী ২৯ বছর বয়সী আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকানওয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, লাকানওয়াল অতীতে আফগান যুদ্ধে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং ২০২১ সালে জো বাইডেন প্রশাসনের ‘অপারেশন অ্যালাইস ওয়েলকাম’ কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনাকে একটি ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আগের প্রশাসনের অভিবাসন পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন আরও ঘোষণা করেছে যে, বাইডেন আমলের বিশেষ মানবিক সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা প্রায় ৭৬ হাজার আফগান শরণার্থীর নথিপত্র এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গভর্নর প্যাট্রিক মরিসি নিহত ন্যাশনাল গার্ড সদস্য বেকস্ট্রমের স্মরণে অঙ্গরাজ্যের পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রে আফগান সম্প্রদায়সহ সামগ্রিক অভিবাসন প্রত্যাশীদের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক শরণার্থী নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে।
জিলাইভ/টিএসএন
