যুক্তরাষ্ট্রের হারানো ছয় পারমাণবিক বোমা নিখোঁজ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো ছয়টি পারমাণবিক ওয়ারহেডের বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই নিখোঁজ অস্ত্র যদি শত্রু দেশের হাতে পড়ে, তা বিশ্বের জন্য ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর-এর ১০ মার্চের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পারমাণবিক ওয়ারহেড সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট বা বোমার মাথার অংশে স্থাপিত থাকে। এটি পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল শক্তি উৎপন্ন করতে সক্ষম। একটির বিস্ফোরণ একটি পুরো শহর ধ্বংস করতে পারে, যা লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে। মার্কিন সামরিক পরিভাষায় দুর্ঘটনাজনিতভাবে হারানো পারমাণবিক অস্ত্রকে “ব্রোকেন অ্যারো” বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ কয়েক দশকে অন্তত ছয়টি দুর্ঘটনায় পারমাণবিক ওয়ারহেড হারানো হয়েছে এবং আজও সেগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। মোট ৩২টি ‘ব্রোকেন অ্যারো’ ঘটনার মধ্যে এই ছয়টি এখনও নিখোঁজ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতে, তারা যদি এই হারানো বোমাগুলি খুঁজে না পায়, তবে শত্ররাও সেগুলো খুঁজে পাবে না।

নিখোঁজ পারমাণবিক ওয়ারহেডের উল্লেখযোগ্য ঘটনা

বছরঘটনাহারানো বোমার ধরনস্থান
১৯৫৮বি-৪৭ বোমারু বিমান দুর্ঘটনামার্ক ১৫ হাইড্রোজেন বোমা (৩.৮ মেগাটন)ওয়াসাউ সাউন্ড, জর্জিয়া উপকূল, USA
১৯৬৬দুই সামরিক বিমানের সংঘর্ষবি-২৬ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমাভূমধ্যসাগর
১৯৬৬একই সংঘর্ষবি-২৮ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা (৪টি মধ্যে ১টি নিখোঁজ)ভূমধ্যসাগর

১৯৫৮ সালে টাইবি দ্বীপের কাছে একটি বি-৪৭ বোমারু বিমান মার্ক ১৫ হাইড্রোজেন বোমা বহন করছিল। জরুরি অবস্থায় পাইলট বোমাটি ওয়াসাউ সাউন্ডে ফেলে দেন। এর বিস্ফোরক ক্ষমতা নাগাসাকি শহরে ফ্যাট ম্যান বোমার তুলনায় প্রায় ১৯০ গুণ বেশি। দুই মাস অনুসন্ধানের পরও বোমার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

১৯৬৬ সালের সংঘর্ষে ভূমধ্যসাগরে ছড়িয়ে পড়া চারটি বি-২৮ বোমার মধ্যে একটি এখনো নিখোঁজ। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লুইস মন্তব্য করেছেন, “যদি কোনো হামলা কোনো সরকারকে উৎখাত করতে ব্যর্থ হয়, ইরান কয়েক দশকের মধ্যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তিটি পুরনো হলেও তারা তা উত্তর কোরিয়ার মতো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারে।”

বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হারানো পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা একত্রিত হলে এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।