গত সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সেনাকে ইরান আটক করেছে। তবে এই দাবি দ্রুতই ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ খণ্ডন করেছে।
লারিজানি এক্সে (X) প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “আমাকে জানানো হয়েছে যে কয়েকজন আমেরিকান সেনাকে বন্দী করা হয়েছে। তবে আমেরিকানরা দাবি করছে, ওই সেনারা নিহত হয়েছেন। সত্যিকারের তথ্য লুকানো সম্ভব নয়।” তিনি স্পষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এই দাবি মিথ্যা বলেছে। হকিন্স বলেন, “ইরানি শাসকগোষ্ঠী মিথ্যা ছড়াতে ও প্রতারণা করতে সম্ভাব্য সবকিছুই করছে। এটি তার আরেকটি সুস্পষ্ট উদাহরণ।” এছাড়া ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র আল–জাজিরা অ্যারাবিককে জানিয়েছেন, “সেনা আটকের বিষয়ে ইরানের এই দাবি তাদের মিথ্যাচার ও প্রতারণার আরেকটি উদাহরণ।”
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ছয় সেনা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানাচ্ছে, এই যুদ্ধে মোট ১,৩৩২ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ১৮০ শিশু। নিহতদের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি স্কুলে নিহত শিশুরা।
নিম্নলিখিত টেবিলে নিহত মার্কিন সেনাদের তালিকা দেওয়া হলো:
| নাম | পদবি | নিহত তারিখ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ডেকলান কোডি | সেনা | ১ মার্চ ২০২৬ | কুয়েতে ড্রোন হামলায় নিহত |
| জেফরি ও’ব্রায়েন | সেনা | ১ মার্চ ২০২৬ | কুয়েতে ড্রোন হামলায় নিহত |
| কোডি খোরক | সেনা | ১ মার্চ ২০২৬ | কুয়েতে ড্রোন হামলায় নিহত |
| নোয়া টিটজেনস | সেনা | ১ মার্চ ২০২৬ | কুয়েতে ড্রোন হামলায় নিহত |
| নিকোল আমোর | সেনা | ১ মার্চ ২০২৬ | কুয়েতে ড্রোন হামলায় নিহত |
| রবার্ট মারজান | সেনা | ১ মার্চ ২০২৬ | কুয়েতে ড্রোন হামলায় নিহত |
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিহত সেনাদের মরদেহ হস্তান্তরের সময় বলেছেন, “এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক দিন। আমরা আমাদের শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি।” ট্রাম্প আশাবাদী সুরে বলেন, “যুদ্ধ যথাযথভাবে এগুচ্ছে এবং আমরা বিশাল ব্যবধানে জিতছি।” তিনি ইরানে সরাসরি সেনা মোতায়েনের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেননি।
যুদ্ধের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া মিশ্র। সাবেক কংগ্রেস সদস্য মারজোরি টেইলর গ্রিন বলেছেন, “ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আর কোনো বিদেশি যুদ্ধ নয়।” যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ অনুযায়ী, ১,৫৯১ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৫৬% এই যুদ্ধে বিরোধিতা করছেন। আল–জাজিরার সংবাদদাতা কিম্বার্লি হ্যালকেট মন্তব্য করেছেন, “এটি একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধ। মানুষ বিশ্বাস করে, এর ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়।”
যুদ্ধের ভয়াবহতা, নিহতের সংখ্যা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তীব্র বিভাজন সৃষ্টি করছে। ট্রাম্পের সামরিক অভিযান তার সমর্থক ও সমালোচকদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যা আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এইভাবে, ইরানের সেনা আটক দাবি, মার্কিন সেনাদের মৃত্যু, এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া মিলিত হয়ে বিশ্বমঞ্চে এক জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
