যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে উদ্বেগে ভারত

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী ভিসা এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য নতুন করে ১ লাখ মার্কিন ডলার ফি আরোপের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ পরিবারগুলোর মধ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এবং এর ফলে গুরুতর মানবিক পরিণতি দেখা দিতে পারে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত ও প্রেক্ষাপট

  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার নির্দেশ দেন, বর্তমান ফি-এর তুলনায় প্রায় ৬০ গুণ বেশি ফি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
  • এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ভারতীয়রা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে জারি হওয়া ভিসার প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতীয়দের হাতে যায়।
  • বড় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কর্মীদের সতর্ক করেছে— ভিসাধারীরা যেন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে দ্রুত দেশে ফেরেন অথবা যারা ভেতরে আছেন তারা বাইরে না যান।
  • তবে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে, নতুন ফি বর্তমান ভিসা বা নবায়ন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

ভারতের প্রতিক্রিয়া

শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়—

  • নতুন ফি পরিবারগুলোর মধ্যে চাপ ও বিঘ্ন সৃষ্টি করবে।
  • এর মানবিক প্রভাব পড়তে পারে।
  • ভারত আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্র এসব সমস্যার উপযুক্ত সমাধান করবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষ কর্মী বিনিময় দুই দেশের জন্যই “অসাধারণ অবদান” রেখেছে। উভয়ের পারস্পরিক সুবিধা ও জনগণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে নীতিনির্ধারকেরা সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

বাণিজ্যিক টানাপোড়েন

  • রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর শুল্ক আরোপ করার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা চলছে।
  • ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভারতে ৪১.৫ বিলিয়ন ডলার পণ্য রপ্তানি করেছে, আর আমদানি করেছে তার দ্বিগুণেরও বেশি— প্রায় ৮৭.৩ বিলিয়ন ডলার।
  • ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন বাণিজ্য আলোচনার উদ্দেশ্যে।

ব্যবসায়িক প্রতিক্রিয়া

  • ভারতের প্রধান বাণিজ্য সংগঠন ন্যাসকম বলেছে, এত অল্প সময়ে এত বড় পরিবর্তন আনার ফলে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য “চরম অনিশ্চয়তা” তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি

হোয়াইট হাউসের দাবি—

  • ভিসাগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে “অপব্যবহার” করা হচ্ছে।
  • এসবের মাধ্যমে মার্কিন মজুরি কমানো এবং আইটি চাকরি আউটসোর্স করার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।
  • তবে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থে হলে কেসভিত্তিক ছাড় দেওয়া যেতে পারে।

ভিসা সংক্রান্ত প্রেক্ষাপট

  • এইচ-১বি ভিসা মার্কিন কোম্পানিগুলোকে সাময়িকভাবে বিশেষায়িত দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়।
  • ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪ লাখ ভিসা অনুমোদন করেছে, এর মধ্যে ২ লাখ ৬০ হাজারই নবায়ন ছিল।