ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত তিন দশক ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ইস্যু নিয়ে তর্জন-গর্জন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন সময় তেহরানে হামলার হুমকি দিয়েছেন। সম্প্রতি সেপ্টেম্বরে, তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক বক্তৃতায় বলেন, তেহরানকে অবশ্যই একটি `পারমাণবিক হুমকির` সম্মুখীন হতে হবে।
গত শনিবার (৭ অক্টোবর) ভোরে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হাজার হাজার রকেট হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস সদস্যরা। এর পরই নেতানিয়াহু ইরানবিরোধী হুমকিকে বাস্তবায়নের সুযোগ হাতে পেয়ে যান। সে দিন ভোর থেকে সীমান্তে নিরাপত্তাবেষ্ঠনী ভেঙে ইসরায়েলে প্রবেশ করে সামরিক ঘাটিতেও হামলা চালায় সহস্রাধিক হামাস যোদ্ধা।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছেন নেতানিয়াহু
স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ সেই হামলায় ইসরায়েলের ১৩`শর বেশি মানুষ নিহত হয়। হামাসের এই হামলা নেতানিয়াহুর পশ্চিমা সমর্থনকে আর বেশি সংহত করেছে সেই সঙ্গে তার নেয়া পাল্টা হামলাকে আর বেশি বৈধতা দিয়েছে। তিনি চাইছেন এই পাল্টা অভিযানকে আর বড় আকার দিতে যাতে মধ্যপ্রাচ্যের তেলআবিব বিরোধী অন্য শক্তিগুলো বিশেষত তেহরান যেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে তার পাল্টা হামলার ইস্যুতে যেন ঢাকা পড়ে যায় ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ব্যর্থতা যারা হামাসের এতো বড় পরিকল্পনাটি আঁচ করতে পারেননি।

যুদ্ধে পরিকল্পনা বা তা কতদিন স্থায়ী হবে তা এখনো প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। তবে পশ্চিমাদের নিরন্তর ও শর্তহীন সমর্থন আদায়ে সামর্থ্য হয়েছেন তিনি। হামাসের অতর্কিত রকেট হামলার পর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে ইসরায়েলে যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই ধারাবাহিকতায় আবারও শনিবার (১৪ অক্টোবর) যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন।
ইসরায়েলকে রক্ষায় এই রণতরী পাঠানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, ‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক পদক্ষেপ ঠেকাতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী ও স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অগে সংঘাত শুরুর পরপরই গত সপ্তাহে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং এর সঙ্গে থাকা অন্য যুদ্ধজাহাজগুলোকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র।
রণতরী পাঠানোর পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখা ও ২০২৪ মার্কন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ইসরায়েল ইস্যুতে রিপাবলিকানদের বাড়তি সুযোগ রোধ করা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই রণতরী মোতায়েনের পেছনে যে ডেটারেন্স ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে তাকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এবং তার কট্টর সমর্থক আইনপ্রণেতারা চাইছেন হামাস বিরোধী যুদ্ধকে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে ইরানকে জড়িয়ে ফেলা। আর যুক্তরাষ্ট্রকে লেলিয়ে দেয়া ইরানের বিরুদ্ধে।
এদিকে, ইসরায়েলের মূলভূখণ্ডে সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলায় এখন পর্যন্ত ২৯ জন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া এখনও ১৫ জন আমেরিকান নাগরিকের কোনও খোঁজ মিলছে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র শনিবার (১৪ অক্টোবর) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রোববার (১৫ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের সহিংসতায় ২৭ মার্কিনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ইসরায়েল গাজায় হামলা চালানো বন্ধ না করলে তাকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। গতকাল শনিবার এ হুমকি দিয়েছেন তিনি। খামেনেয়ি বলেন, ইসরায়েলে হামাসের হামলা ফিলিস্তিনিদের বিজয় ডেকে আনবে।
বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ ফিলিস্তিনে ইসলামের অবিশ্বাস্য শক্তির এক ইঙ্গিত। ইনশাআল্লাহ, ফিলিস্তিনে যে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে তা এগিয়ে যাবে এবং ফিলিস্তিনিদের পূর্ণ বিজয়ের দিকে নিয়ে যাবে।
এদিকে, গাজায় এবার তিন দিক দিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল সেনাবাহিনী। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে কখন এ হামলা চালানো হবে সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। ভূমি, আকাশ এবং সমুদ্র থেকে এ হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। আবার গাজায় স্থল অভিযানও চালাতে চায় ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সৈন্যদের বলেছেন, পরবর্তী পদক্ষেপ আসছে। গত শনিবার (৭ অক্টোবর) ইসরায়েল ভূখণ্ডে হাজার হাজার রকেট হামলা চালায় হামাস।