২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের প্রারম্ভের আগেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও রাজনীতির মেলবন্ধন উত্তাল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ ও আক্রমণাত্মক কূটনীতির কারণে ব্রিটিশ সংসদের একদল এমপি দেশটিকে বিশ্বকাপসহ বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন।
ব্রিটিশ এমপিদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ও অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছেন না। মূল উদাহরণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন, ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান। এছাড়া ট্রাম্পের হুমকি এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ঘোষণায় বিভিন্ন দেশ—গ্রিনল্যান্ড, মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও ইরান—সংকটে রয়েছে।
লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি ও প্লাইড কামরু পার্টির ২৩ জন এমপি একটি যৌথ প্রস্তাবে সই করেছেন। তারা বলেছেন, “বিশ্বকাপ বা অলিম্পিককে কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘনের হাতিয়ার হতে দেওয়া যাবে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ
| দেশ | ট্রাম্পের পদক্ষেপ | স্থানীয় প্রতিক্রিয়া |
|---|---|---|
| ভেনেজুয়েলা | প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করার সামরিক অভিযান | মাদুরো নিজেকে যুদ্ধবন্দী দাবি করেছেন; জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন |
| কলম্বিয়া | মাদক পাচারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হুমকি | প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো উদ্বিগ্ন, হুমকি রোধের আহ্বান |
| কিউবা | তেল রপ্তানি নিয়ে সতর্কবার্তা | কিউবার প্রতিক্রিয়া সীমিত, চুক্তি আহ্বান |
| মেক্সিকো | মাদক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ | প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান |
| গ্রিনল্যান্ড | জাতীয় নিরাপত্তার নামে নিয়ন্ত্রণ দাবি | ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণাধীন, সম্ভাব্য সামরিক হুমকি |
ফিফা ও অলিম্পিক কমিটি ইতিমধ্যেই রাশিয়াকে ইউক্রেনে আক্রমণের কারণে নিষিদ্ধ করেছে। ব্রিটিশ এমপি ব্রায়ান লেইশম্যান প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি রাশিয়ার ক্ষেত্রে নীতি কার্যকর হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কেন নয়?” তবে ফিফা মুখে কুলুপ এঁটেছে, এবং আইওসি নিশ্চিত করেছে, রাজনীতি খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলতে পারবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য জটিলতা তৈরি করবে। বিশেষ করে, বিশ্বকাপ আয়োজনকালে কঠোর অভিবাসন নীতি ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান, হাইতি, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকরা ভ্রমণে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারেন।
ফলে, মাঠের ফুটবল ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স কতোটা প্রভাবিত হবে, তা এখন অন্যতম বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বকাপের মাঠে রাজনীতি কতটা ফুটে উঠবে, সেটাই আগামী মাসে প্রধান নজরকাড়া বিষয়।
