যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর যুক্তরাজ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, সব বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অযথা লেনদেন বা নির্দেশ মানতে তাদের বাধ্য করা যাবে না। ব্রিটিশ কর্ম ও পেনশন মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন বলেন, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি রক্ষায় জাহাজ সরবরাহ না করার সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেনে নেওয়া হবে না।
ম্যাকারফ্যাডেন আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘অত্যন্ত লেনদেনমুখী’ বা হিসেবী হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, “আমাদের কাজ হলো এই বাগাড়ম্বরের মধ্য দিয়ে পথ খুঁজে বের করা, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্ব বহু দিক থেকে গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী।”
Table of Contents
হরমুজ প্রণালি ও দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ না পাঠানোর কারণে তিনি বিরক্ত। তাঁর আশঙ্কা, নৌপথে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎও প্রভাবিত হতে পারে।
ম্যাকারফ্যাডেনের মতে, যুক্তরাজ্য ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি হস্তক্ষেপের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সহমত নেবে না। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। যুক্তরাজ্য সরাসরি কোনো প্রধান পক্ষের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
যুক্তরাজ্যের কৌশল ও পরিকল্পনা
বর্তমানে যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালিতে সরাসরি জাহাজ পাঠানোর পরিবর্তে মাইন অপসারণকারী ড্রোন প্রেরণ করার পরিকল্পনা করছে। এটি ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
ম্যাকারফ্যাডেন বলেন, “এটি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যুক্তরাজ্যের সাধারণ জনমতের প্রতিফলন। আমরা শুধু রক্ষণাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছি, কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নয়।”
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, তার হোয়াইট হাউস সফরের সময় ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান। তবে ইরান আক্রমণের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সীমিত সমর্থন ট্রাম্পের সমালোচনার কারণ হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রী | ব্রিটিশ কর্ম ও পেনশন মন্ত্রী, প্যাট ম্যাকফ্যাডেন |
| ট্রাম্পের অভিযোগ | হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ না পাঠানো, ন্যাটোর ভবিষ্যতের ঝুঁকি |
| যুক্তরাজ্যের কৌশল | রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা, মাইন অপসারণকারী ড্রোন প্রেরণ |
| দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক | দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব, সীমিত সমর্থন |
| প্রধান নীতি | যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ সবসময় মানার বাধ্যবাধকতা নেই |
| আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গতি | রক্ষণাত্মক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক আইনের সীমানার মধ্যে নিজেদের স্বতন্ত্র নীতি প্রয়োগ করছে।
