মে মাসে কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আবাসন খাতে প্রস্তাবিত Renters Rights Act–কে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনটি ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা জোরদার, উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় সংস্কার এবং ভাড়া–চুক্তির কাঠামোতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত হলেও, বাড়িওয়ালা ও লেটিং এজেন্টদের একটি বড় অংশ সম্ভাব্য আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে রেন্টাল প্রোটেকশন ইন্স্যুরেন্স বা ভাড়া–সংক্রান্ত বীমার চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুডলর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়কালে তাদের প্ল্যাটফর্মে রেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পণ্যের চাহিদা ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আইন কার্যকরের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে বাড়িওয়ালাদের মধ্যে সচেতনতা ও আশঙ্কা—দুই-ই বাড়ছে।
সম্প্রতি ২৩৪ জন বাড়িওয়ালা ও লেটিং এজেন্টের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৭৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে নতুন আইন তাদের বীমা নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। ১১ শতাংশ বলেছেন, তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। মাত্র ১ শতাংশ জানিয়েছেন, আইনের কারণে বীমা নেওয়ার আগ্রহ কমেছে। অবশিষ্ট অংশ সিদ্ধান্তহীন বা মন্তব্য করেননি।
জরিপের সারসংক্ষেপ
| সূচক | শতাংশ |
|---|---|
| আইন কার্যকরের ফলে বীমা নেওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে | ৭৬% |
| অবস্থান অপরিবর্তিত | ১১% |
| বীমা নেওয়ার আগ্রহ কমেছে | ১% |
| সেপ্টেম্বর–ডিসেম্বরে বীমা চাহিদা বৃদ্ধি | ৪১% |
রেন্টাল প্রোটেকশন ইন্স্যুরেন্স সাধারণত ভাড়াটিয়া ভাড়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে ক্ষতিপূরণ দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভাড়া আটকে রাখা, দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি বা আদালত–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আয় বন্ধ হয়ে গেলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর্থিক সুরক্ষা দেয়। পাশাপাশি আদালতের খরচ, আইনজীবীর ফি এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির মতো ব্যয়ও আংশিক বা সম্পূর্ণ কভার করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আইনের অধীনে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এলে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সময় বাড়তে পারে। এতে বাড়িওয়ালাদের নগদ প্রবাহে চাপ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষত যেসব বাড়িওয়ালা মর্টগেজ নির্ভর বিনিয়োগে সম্পত্তি কিনেছেন, তাদের জন্য কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া থাকাও আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে। ফলে বীমাকে তারা ঝুঁকি–ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর উপায় হিসেবে দেখছেন।
গুডলর্ডের এক মুখপাত্র বলেন, আইনটি আবাসন বাজারে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারে এবং বাজারও সেই অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে। আদালতে মামলার জট, ভাড়াটিয়ার অনুপস্থিতি বা দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া কমানোর মতো পরিস্থিতি সব সময় বাস্তবায়িত নাও হতে পারে; তবে অনিশ্চয়তার সময়ে অনেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী।
খাতবিশ্লেষকদের অভিমত, নীতিগত বড় পরিবর্তনের আগে ঝুঁকি–ব্যবস্থাপনা ব্যয় বৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, আদালত ব্যবস্থার দক্ষতা এবং চুক্তিগত স্বচ্ছতার ওপর। মে মাস যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রেন্টাল ইন্স্যুরেন্স খাতে চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
