যুক্তরাজ্যে ফের ইউক্রেন শান্তি আলোচনা শুরু

রাশিয়ার সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইউক্রেনে ইস্টারের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর, বুধবার যুক্তরাজ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় দেশের কূটনীতিকরা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এএফপি জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শিগগিরই মস্কো সফর করবেন। ট্রাম্পের দায়িত্বকালীন এটি হবে তার চতুর্থ রাশিয়া সফর। এ আলোচনার মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্প দখলকৃত ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারেন।

বৈঠকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি। অংশ নিয়েছেন মার্কিন দূত কিথ কেলগ, ফরাসি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইমানুয়েল বোন এবং ইউক্রেনের পক্ষে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়ারমাকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা।

নতুন হামলার প্রেক্ষাপট:
এই সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনে ফের বিমান হামলা শুরু করেছে। দনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ৯ জন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হন। কিয়েভ, খারকিভ ও ওডেসাসহ বেশ কয়েকটি শহরেও হামলা হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার বেলগোরদ অঞ্চলেও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

শান্তি প্রচেষ্টার অবস্থা:
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির পরই কেবল রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা তড়িঘড়ি কোনো যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেবে না।

ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ থামাতে পারবেন। যদিও এখনও পুতিনকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি করানো যায়নি। গত সপ্তাহে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, ‘এই সপ্তাহেই’ সমঝোতা হতে পারে।

পশ্চিমা কূটনৈতিক তৎপরতা:
গত সপ্তাহে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির শীর্ষ কূটনীতিকরা বৈঠক করেন। সেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি শান্তি পরিকল্পনার প্রস্তাব দেন, যার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

রুবিও ও ট্রাম্প দু’জনেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আলোচনা দ্রুত এগোতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র সরে যেতে পারে। ইউরোপীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প সামরিক ও আর্থিক সহায়তা কমালে ইউক্রেনকে সমর্থনের বিষয়টি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

দীর্ঘমেয়াদি শান্তি:
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি জানিয়েছেন, আলোচনায় যুদ্ধবিরতির কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানান, ইউরোপের আশঙ্কা ছিল তারা সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়বে, তবে এবার সবাই একই টেবিলে বসেছে।