বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপির কিছু কর্মী পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তাদের আটক রেখেছে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষের উপর মব সৃষ্টি করার অধিকার রাখে না এবং এ ধরনের নোংরা মব সৃষ্টির রাজনীতিকে তিনি তীব্রভাবে নিন্দা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, “দেশে মব রাজনীতির যুগ ইতিমধ্যেই শেষ হওয়া উচিত। জনগণ এখন যথেষ্ট সচেতন, আর কারও পক্ষ থেকে মব ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার সময় নেই।” তিনি বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা হাসপাতালে আহত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি জানান, হামলাকারীরা কেবল পুরুষ কর্মীর ওপর হামলা চালায়নি, নারী কর্মীরাও এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা এমন হামলা চালিয়েছে, তারা কি কখনো মা-বোনের মর্যাদা বোঝে নি? আমরা আর এ ধরনের অমানবিক পরিস্থিতি দেখতে চাই না।”
জামায়াত আমির দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বার্তা দিয়ে বলেন, প্রত্যেক দল জনগণের কাছে তাদের অঙ্গীকার ও কর্মসূচি তুলে ধরুক। জনগণ অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেবে। জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও দুর্নীতিমুক্ত শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
ডা. শফিকুর রহমান ৩০০ আসনের সব প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানান যাতে তারা জনগণকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেন। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের প্রতি তিনি বলেন, কমিশনকে তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ ও সমতল মাঠ নিশ্চিত করতে হবে।
নিম্নলিখিত টেবিলে হামলার প্রেক্ষাপট ও জামায়াতের অবস্থান সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়বস্তু | বিবরণ |
|---|---|
| হামলার তারিখ | ২০ জানুয়ারি ২০২৬ |
| হামলার উদ্দেশ্য | জামায়াতের নেতাকর্মীদের ভয় দেখানো ও আটক রাখা |
| হামলার শিকার | পুরুষ ও নারী নেতাকর্মী উভয় |
| জামায়াতের দাবি | মব রাজনীতি বন্ধ করা, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা |
| জনগণ সচেতনতার বার্তা | জনগণ এখন যথেষ্ট সচেতন, মবের মাধ্যমে প্রভাবিত করা সম্ভব নয় |
| নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান | সমান সুযোগ ও সমতল নির্বাচন মাঠ নিশ্চিত করা |
ডা. শফিকুর রহমানের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, জামায়াত প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর প্রতি সদিচ্ছা এবং ন্যায়পরায়ণতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলছেন, যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে বজায় থাকে এবং জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশ নিশ্চিত হয়।
