যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলম মলমপার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে গ্রেপ্তার

বরিশাল ও দেশের অন্যান্য জেলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক হত্যা মামলার আসামিকে র‌্যাব-৮ গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (২৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকা থেকে মো. আসাদুজ্জামান আলমকে আটক করা হয়। এ সময় র‌্যাব-৩ সহযোগিতায় অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি পিরোজপুরের মাথা বেড়া এলাকার মৃত মফিজুর রহমান শেখের ছেলে। বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক অমিত হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পিরোজপুর থানার উপ-পরিদর্শক আনিচুর রহমান জানান, আসাদুজ্জামান আলমের বিরুদ্ধে পিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চারটি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে ২০১০ সালে ঝিনাইদহে সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় ২০২৩ সালে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। এছাড়া পিরোজপুরে তার বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা বর্তমানে বিচারাধীন।

আনিচুর রহমান আরও জানান, “আলম মলমপার্টির একজন সক্রিয় সদস্য। বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে। তিনি পলাতক অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলছিলেন।”

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর সোমবার দুপুরে তাকে পিরোজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত প্রমাণ এবং মামলার বিবেচনার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা নিম্নরূপ:

তারিখঘটনাস্থান / মন্তব্য
২০১০ঝিনাইদহে হত্যা মামলার ঘটনাআদালতে মামলাটি চলমান
২০২৩আদালত মো. আসাদুজ্জামান আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ঝিনাইদহ
২৩ নভেম্বরগ্রেপ্তার অভিযানপুরানা পল্টন, ঢাকা, র‌্যাব-৮ ও র‌্যাব-৩ সহযোগিতা
২৪ নভেম্বরআদালতে হাজির ও কারাগারে পাঠানোপিরোজপুর আদালত

পুলিশ ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসাদুজ্জামান আলমের গ্রেপ্তার দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে। বিশেষ করে পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সমন্বিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মলমপার্টির সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বিচারের মাধ্যমে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো সুনিশ্চিত করা সম্ভব। এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামির গ্রেপ্তার সাধারণ মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের আশা বৃদ্ধি করে।

আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ধরনের অভিযানে সতর্কতার সঙ্গে প্রমাণ সংগ্রহ, অনুসন্ধান এবং তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দ্রুত বিচারাধীন আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে।

র‌্যাবের তরফে আরও জানানো হয়েছে, “ভবিষ্যতে মলমপার্টি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্যদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। জনসাধারণকে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

মো. আসাদুজ্জামান আলমের গ্রেপ্তার ও আদালতের রায় দেশের বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অঙ্গীকারকে দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত করছে।