যাত্রাবাড়ীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গুলিবিদ্ধ কর্মকর্তা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সায়েদাবাদ রেললাইন সংলগ্ন স্থানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর) এক কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত কর্মকর্তা হলেন অধিদপ্তরের খিলগাঁও অঞ্চলের পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান (৪১)। ঘটনা ঘটেছে আজ সোমবার দুপুর ১২:৩০ মিনিটে, যখন তিনি মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকর্মী মো. ফজলুল হক খান জানিয়েছেন, অভিযানের সময় অজ্ঞাতপরিচয় একজন সন্ত্রাসী মাদক কারবারি পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানের দিকে গুলি চালায়। গুলি তাঁর বাঁ পায়ে আঘাত হানে এবং ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়।

আহত কর্মকর্তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়েছে। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফারুক নিশ্চিত করেছেন যে, সিদ্দিকুর রহমানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে।

পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ তৎপরতায় সন্ত্রাসীকে শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এই ধরনের সহিংসতা সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ক্রমবর্ধমান মাদকবিরোধী অভিযানকে উদ্বিগ্ন করছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

তথ্যবিবরণ
আক্রান্ত কর্মকর্তাসিদ্দিকুর রহমান, ৪১ বছর
পদবীখিলগাঁও অঞ্চলের পরিদর্শক
স্থানসায়েদাবাদ রেললাইন সংলগ্ন, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
সময়২ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১২:৩০
আক্রান্ত স্থানবাঁ পায়ে গুলি
চিকিৎসাধীনঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জরুরি বিভাগ
দায়ীঅজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসী মাদক কারবারি
পরিস্থিতিআহত কর্মকর্তা স্থিতিশীল, সন্ত্রাসী পলায়ন

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও পুলিশের যৌথ তৎপরতায় ঢাকা শহরে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা এই ধরনের সহিংসতা মোকাবেলায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

সোমবারের এই ঘটনায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযানের সময় ব্যবহৃত নিরাপত্তা প্রটোকল পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং এলাকাজুড়ে পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এই ঘটনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, ঢাকা শহরের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর শহরের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক কারবারের মূল চক্র চিহ্নিত করতে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

এই ধরনের অভিযান ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদকবিরোধী প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত হবে এবং রাজধানী ঢাকাকে মাদকমুক্ত রাখার লক্ষ্য আরও বাস্তবসম্মত হবে।