যশোর শহরের শঙ্করপুর এলাকায় এক দুর্ধর্ষ ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন (৫০)। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। নিহত আলমগীর হোসেন শঙ্করপুর এলাকার ইন্তাজ চৌধুরীর সন্তান এবং যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। প্রকাশ্য স্থানে একজন রাজনৈতিক নেতাকে এভাবে হত্যা করার ঘটনায় পুরো যশোর জেলায় চাঞ্চল্য ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলমগীর হোসেন শঙ্করপুর এলাকায় স্থানীয় নয়ন কাউন্সিলরের কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে পরিচিত কয়েকজনের সাথে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ওত পেতে থাকা একদল অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অতর্কিতে তার ওপর হামলা চালায়। ঘাতকরা সরাসরি তার মাথার বাম পাশে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। গুলির প্রচণ্ড শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশেপাশে থাকা মানুষ প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। আলমগীর হোসেন সাথে সাথেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং এই সুযোগে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সাহসিকতার সাথে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক ঘটনার ভয়াবহতা নিশ্চিত করে জানান, আলমগীরকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার মাথার বাম দিকে গভীর ক্ষত ছিল এবং মস্তিস্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। চিকিৎসকদের মতে, গুলির আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে তার বাঁচার সম্ভাবনা ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ।
হত্যাকাণ্ডের প্রধান তথ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
| বিষয়ের নাম | বিস্তারিত তথ্য |
| নিহতের পরিচয় | আলমগীর হোসেন (৫০), ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা। |
| ঘটনার সময় | ৩ জানুয়ারি ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিট। |
| আঘাতের স্থান | মাথার বাম পাশে মরণঘাতী গুলির আঘাত। |
| ঘটনাস্থল | শঙ্করপুর ইসহাক সড়ক, কাউন্সিলর নয়নের অফিসের সামনে। |
| প্রাথমিক পদক্ষেপ | মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ। |
| বর্তমান অবস্থা | এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ও আসামিদের খোঁজে তল্লাশি। |
যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর মুমিনুল হক গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে। শঙ্করপুর ইসহাক সড়কে বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যার কারণ এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। পুলিশ বর্তমানে ঘটনার মোটিভ বা কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্দেহভাজনদের আটকে সাড়াশি অভিযান শুরু করেছে।
নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে জানান, তার ভাইয়ের কোনো ব্যক্তিগত শত্রু ছিল বলে তাদের জানা নেই। বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে শঙ্করপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
