যশোরে চালডাল ডটকম: ৬০০ কর্মীর বেতন তিন মাস বকেয়া

যশোরে চালডাল ডটকমের অফিসে তিন মাস ধরে অন্তত ৬০০ কর্মীর বেতন স্থগিত থাকার ঘটনা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আকাশ আকবার নামের এক প্রিমিয়াম কেয়ার অ্যাসোসিয়েট চার বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বেতন পাননি। শুধু তিনি নয়, একই অফিসের অনেকে একই সমস্যায় ভুগছেন।

আজ সোমবার সকালে কর্মীরা অফিসে গিয়ে কাজ বন্ধ রেখে বেতন দেওয়ার দাবিতে অবস্থান নেন। অফিস কর্তৃপক্ষ বিকেলের শিফট বাতিলের নোটিশ দিলে কর্মীদের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়।

চালডাল ডটকম ২০১৯ সালে যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ১২ এবং ১৪ তলা ১২ হাজার বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করে কল সেন্টার চালু করে। অফিসে প্রায় ৬০০ কর্মী নিয়োজিত, যাদের মধ্যে অনেকে অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী। তাদের মাসিক বেতন দিয়ে লেখাপড়া এবং দৈনন্দিন খরচ চালানো হয়। বেতন বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়েছেন।

জি এম দুর্লভ হাসান নামের এক ম্যাপিং অ্যাসোসিয়েট বেতন না পাওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে চাকরি ছেড়ে দেন। তিনি জানান, তার বকেয়া বেতন ৩৪,৫০০ টাকা। তাঁর মতো কর্মী অন্তত ৬০০ জন একই পরিস্থিতির মুখোমুখি।

আকাশ আকবার বলেন, “বেতন না দেওয়ায় আমাদের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এটি আমাদের জন্য খুবই কঠিন সময়।”

চালডাল ডটকমের যশোর অফিসের ফোকাল পারসন মিঠুন জানিয়েছেন, হঠাৎ আর্থিক সংকটের কারণে বেতন পরিশোধ সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “নতুন বিনিয়োগ না আসায় আমরা এই পরিস্থিতিতে পড়েছি। কর্মীদের হট্টগোলের কারণে বিকেলে অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।”

নিচের টেবিলের মাধ্যমে সংক্ষেপে পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

কর্মী নামপদবীবেতন বকেয়া মাসবকেয়া পরিমাণ (টাকা)
আকাশ আকবারপ্রিমিয়াম কেয়ার অ্যাসোসিয়েট৪৫,০০০
জি এম দুর্লভ হাসানম্যাপিং অ্যোসিয়েট৩৪,৫০০
মোট প্রভাবিত কর্মী৩–৪

কর্মীদের দাবি, দ্রুত বেতন পরিশোধ না হলে তারা কর্মবিরতি বা বৃহত্তর আন্দোলনের পথ নিতে বাধ্য হবেন। যশোরের স্থানীয় কমিউনিটিও এই পরিস্থিতির প্রতি উদ্বিগ্ন। অর্থনৈতিক দিক থেকে বিপর্যস্ত কর্মীরা শিক্ষাজীবন ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে পারছেন না।

বর্তমান পরিস্থিতি শুধু কর্মীদের নয়, স্থানীয় অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশকেও প্রভাবিত করছে। বেতন বিতর্কের দ্রুত সমাধান না হলে অফিসের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।