যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় যানজট উর্ধ্বগতি

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চারদিনের ভোটকালীণ ছুটির সময়ে ঢাকার শহরবাসীকে নিজ গ্রামের পথে রওনা হতে দেখে জামুনা সেতু এবং ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ির চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর প্রভাবে সেতুর টোল সংগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জামুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৬,৯২৩টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে, যা ২৯,৪৭১,৬৫০ টাকা টোল আয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উত্তরমুখী (গ্রামের দিকে) যানচলাচল দক্ষিণমুখী (ঢাকা-দিক) তুলনায় অনেক বেশি ছিল।

সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “সোমবার রাত থেকে মহাসড়কে যানজট শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে গাড়ির ভারী চাপের কারণে কিছু সময়ে চলাচল স্থগিত ছিল। তবে দিন শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।”

গত ২৪ ঘণ্টার টোল সংগ্রহ ও যানবাহনের বিস্তারিত নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

গন্তব্যযানবাহনের সংখ্যাটোল সংগ্রহ (টাকা)
উত্তরমুখী২৩,৯৮৯১৭,৪৯৪,৯০০
ঢাকা-মুখী১২,৯৩৪১১,৯৭৬,৭৫০
মোট৩৬,৯২৩২৯,৪৭১,৬৫০

প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন আরও বলেন, সাধারণত রাতের দিকে এবং সকাল থেকে দুপুরের প্রথম দিকে যানজট বেশি দেখা যায়। তবে বর্তমানে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে।

সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চালক ও যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে নির্বাচনের ছুটির সময় যানচাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে। তারা আরও জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি নির্বাচনী যাতায়াত চলাকালীন দিনে অনিয়মিতভাবে চালু থাকতে পারে।

উত্তরমুখী যানবাহনের সংখ্যা দক্ষিণমুখী তুলনায় বেশি হওয়ায় সেতু কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত নজরদারি বজায় রেখেছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত যানচলাচলের গতি সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।

জামুনা সেতুর যানবাহন ও টোলের তথ্য কেবল যানপরিমাণ প্রদর্শন করছে না, এটি দেশের প্রধান সড়ক সংযোগ এবং ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবেও বিবেচিত, যা জাতীয় ইভেন্টের সময় সেতুর কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে।