সৌদি প্রিমিয়ার লিগে আল নাসরের হয়ে মাঠে ফেরার সাথে সাথে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আবারো নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করলেন। দুই ম্যাচের বয়কটের পর, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রোনালদো আল ফাতেহের বিপক্ষে ম্যাচে ১৮ মিনিটে গোল করে দলের ২–০ বিজয় নিশ্চিত করলেন। এই গোলের মাধ্যমে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী রোনালদো আধুনিক ফুটবলের একজন সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে নিজের স্থান আরও দৃঢ় করলেন।
রোনালদো সাম্প্রতিক সময়ে আল নাসরের দুই ম্যাচ—আল ইত্তিহাদ এবং আল রিয়াধের বিপক্ষে—অন্তর্ভুক্ত হননি। তার বয়কটের কারণ ছিল ক্লাবের ট্রান্সফার উইন্ডোতে পর্যাপ্ত শক্তিশালী খেলোয়াড় নেবে না বলে হতাশা। এই হতাশা আরও বাড়ছিল, বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলাল, পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (PIF) এর সহায়তায় তারকা ফরোয়ার্ড কারিম বেনজেমা নিয়োগ করার পর। রোনালদো তর্ক করেছিলেন যে আল নাসরকেও সমমানের বিনিয়োগ করা উচিত ছিল শীর্ষ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য।
শেষ পর্যন্ত, রোনালদো বয়কট শেষ করে স্টার্টিং ইলেভেনে ফিরে আসেন। তার নেতৃত্বে ফ্রন্টলাইনটি গঠিত হয়েছিল জোয়াও ফেলিক্স, সাদিও মানে, এবং কিংসলি কোমানের সঙ্গে। অধিনায়ক হিসেবে তার উপস্থিতি দলের মনোবল বাড়ায়। দ্রুত গোল করে তিনি সতীর্থদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলেন, যা নিশ্চিত করে যে আল নাসরর একটি শান্তিপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে।
এই জয়ের ফলে আল নাসর লিগে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, শীর্ষস্থানীয় আল হিলালের এক পয়েন্ট পিছিয়ে। রোনালদোর ব্যক্তিগত গোল সংখ্যা এখন ১৮, যা গোল্ডেন বুট দৌড়ে আল কাদসিয়ার জুলিয়ান কুইনোনেসের সমান এবং আল আহলির ইভান টোনির দুই গোলের ব্যবধান।
সৌদি প্রিমিয়ার লিগের টেবিল এবং রোনালদোর অবদান
| দল | খেলা | জয় | পরাজয় | গোল | পয়েন্ট | রোনালদোর গোল |
|---|---|---|---|---|---|---|
| আল হিলাল | ২০ | ১৩ | ৪ | ৩৭ | ৪০ | – |
| আল নাসর | ২০ | ১২ | ৫ | ৩৪ | ৩৯ | ১৮ |
| আল শাবাব | ২০ | ১১ | ৬ | ৩০ | ৩৬ | – |
| আল ফাতেহ | ২০ | ৮ | ৮ | ২৮ | ৩২ | – |
| আল আহলি | ২০ | ৭ | ৯ | ২৬ | ৩০ | – |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রোনালদোর উপস্থিতি এবং গোলদানের ক্ষমতা আল নাসরের শীর্ষ স্থান ধরে রাখার সম্ভাবনাকে দৃঢ় করবে। এছাড়াও, তার নেতৃত্ব তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রভাব ফেলছে, দলগত সমন্বয় বাড়াচ্ছে এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করছে।
