গত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবার এলাকায় পুলিশের সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত অভিযানে অন্তত ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে। রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযান মূলত চাঁদাবাজি, সড়ক ডাকাতি এবং কিশোর গ্যাং সক্রিয়তার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।
টেজগাঁও পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, এই অভিযান পরিচালনা করেছেন উপকমিশনার মোঃ ইবনে মিজান। অভিযানে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল, যেমন অতিরিক্ত উপকমিশনার, সহকারী কমিশনার এবং মোহাম্মদপুর ও আদাবার থানার অফিসার-ইন-চার্জ। কর্মকর্তারা ত্বরিত এবং ঝুঁকি-মুক্তভাবে অভিযান সম্পন্ন করতে নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল স্থানীয় জনসাধারণকে সুরক্ষা প্রদান এবং অপরাধী উপাদানগুলির প্রভাব কমানো। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে স্থানীয়রা নিরাপদে রমজান মাস পালন করতে এবং ঈদ উদযাপন করতে পারে। এছাড়া, কিশোর গ্যাং কার্যক্রম পুনরায় শুরু না হওয়ার জন্য স্থানীয় যুব নেতৃবৃন্দ ও কমিউনিটি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
উপকমিশনার মোঃ ইবনে মিজান জানিয়েছেন, “মোহাম্মদপুর ও আদাবারে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে। আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে নাগরিকদের নিরাপত্তা। চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও গ্যাং সক্রিয়তা প্রতিরোধে আমরা সক্রিয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখব।”
অভিযানের সময় পুলিশ আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে, যা এলাকায় সংগঠিত অপরাধমূলক নেটওয়ার্ককে কার্যত ব্যাহত করেছে।
স্থানীয়রা এই কার্যকরী পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, “এই অভিযানের পর আমাদের এলাকায় নিরাপত্তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আমরা রমজান পালন এবং ঈদ উদযাপন করতে পারি, নিরাপদে।”
টেজগাঁও পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালানো হবে, যা অপরাধের হার কমানো, কিশোর গ্যাং গঠনের প্রতিরোধ এবং স্থানীয় পুলিশের প্রতি জনমনের আস্থা দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।
নিম্নলিখিত টেবিলে অভিযানের প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| আটক সংখ্যা | ১০০ জন |
| অভিযান সময় | রাত ১০টা – ২টা |
| নেতৃত্বদাতা কর্মকর্তা | উপকমিশনার মোঃ ইবনে মিজান |
| অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা | অতিরিক্ত উপকমিশনার, সহকারী কমিশনার, থানার অফিসার-ইন-চার্জ |
| অভিযান এলাকা | মোহাম্মদপুর ও আদাবার |
| প্রধান উদ্দেশ্য | চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ; জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ |
| অতিরিক্ত পদক্ষেপ | অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, যুব ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় |
এই অভিযানকে সক্রিয় পুলিশি পদক্ষেপের একটি মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, যা আইন প্রয়োগ ও কমিউনিটি সংযুক্তির মধ্যে সুষম সমন্বয় স্থাপন করেছে, বিশেষত ধর্মীয় অনুষ্ঠানকালীন সংবেদনশীল সময়ে।
