মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ের হত্যায় গৃহকর্মী-স্বামী রিমান্ডে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও কন্যার নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার এবং তার স্বামী রাব্বিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম রিমান্ডের এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) সহিদুল ওসমান মাসুম আদালতে জানান, আসামিদের কার্যত ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে এ রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

ঘটনার পটভূমি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় মা ও কন্যার হত্যার মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি জানান, তার স্ত্রী লায়লা ফিরোজ এবং নবম শ্রেণির কন্যা নাফিসা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় বসবাস করছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে।

প্রতিদিনের মতো সোমবার সকাল ৭টার দিকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন আজিজুল। স্কুলে পরীক্ষা চলছিল, তাই তিনি বাসায় ফিরে আসার সময় তাড়াহুড়া করতেন। কিন্তু বেলা ১১টার দিকে বাসায় ফেরার পর স্ত্রী ও কন্যার লাশ দেখতে পান। তার চিৎকারে আশেপাশের বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন এবং দ্রুত পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সকালে ৭টা ৫১ মিনিটে আনুমানিক ২০ বছর বয়সী আয়েশা বোরখা পরে বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে স্কুলড্রেস পরে নির্বিঘ্নে বাড়ি থেকে বের হন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই স্কুলড্রেসটি খুন হওয়া কন্যা নাফিসার ছিল।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং গৃহকর্মীর ভূমিকা স্পষ্ট। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ আয়েশা আক্তারকে গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দপদপিয়া ইউনিয়নের চরকয়া এলাকায় ফুফু শাশুড়ির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তার স্বামী রাব্বি পুলিশি তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

এদিকে, পুরো এলাকায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটার পর চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বাসিন্দারা আতঙ্কিত ও শোকাহত। স্থানীয়রা পুলিশকে দ্রুত ঘটনাটির সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন, রিমান্ডের সময় তারা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও পরিকল্পনা সম্পর্কিত আরও স্পষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করতে সক্ষম হবেন।

তদন্ত ও রিমান্ডের সময় এই তথ্যগুলো মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আসামিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।