রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও শোনা মিয়ার টেক এলাকায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাওন (২৩)সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ২টা পর্যন্ত চলা এই অভিযান মূলত শাওনকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। বসিলা আর্মি ক্যাম্প থেকে প্রাপ্ত গোপন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী শাওন দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুরের ওই এলাকায় অবস্থান করছে। গত বছর শাওনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে একটি হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, শাওন এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
অভিযানকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাওনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেন। অভিযানের সময় তার সঙ্গে থাকা আরও চারজন সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: আনোয়ার (২৫), শাকিল (২৩), শুভ (২০) এবং বেলাল (৩৬)।
অভিযানে উদ্ধারকৃত সামগ্রীর বিস্তারিত নিম্নরূপ:
| ধরন | পরিমাণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| পেট্রোল বোমা | ৮টি | সশস্ত্র হামলার জন্য প্রস্তুত |
| শটগান গুলি | ৫ রাউন্ড | শাওনের ব্যবহৃত অস্ত্রের অংশ |
| ছুরি | ১টি চাইনিজ ছুরি | হামলার সরঞ্জাম |
| সামুরাই | ৮টি | স্থানীয় অস্ত্র |
| চাপাতি | ৫টি | মুকাবেলার জন্য ব্যবহার |
| রামদা | ১টি | খুনের জন্য ব্যবহার হতে পারে |
| ইয়াবা | ৬১টি ট্যাবলেট, ৩৫ গ্রাম | ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক মাদক |
| গাঁজা | ৪৭৫ গ্রাম, ৬০ পুরিয়া | মাদক পাচার উদ্দেশ্যে |
| মোবাইল ফোন | ৪টি | যোগাযোগের উপকরণ |
| বিদেশি কয়েন | ৫৮টি | সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ |
| ওজন মেশিন | ১টি | মাদক পরিমাপের জন্য |
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযানের পর সেনাবাহিনীর টহলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং বলেন, “শাওন গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল। এবার তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।”
৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “গত বছর শাওন প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তার সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে তাকে চিহ্নিত করা হয়। এর আগে কয়েকটি অভিযান করা হলেও শাওন ধরা পড়ে না। গতরাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে তাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই অভিযান এলাকার অপরাধ দমন এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
