মোস্তাফিজ-শরিফুল পেলেন পিএসএলে খেলার অনুমতি

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ২০২৬ সালে এবার বাংলাদেশের ছয় তারকা ক্রিকেটার অংশ নিচ্ছেন। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে তারা খেলতে পারার জন্য বিসিবির (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) অনাপত্তিপত্র (NOC) পাবেন কি না এবং থাকলে কতদিনের জন্য, এ নিয়ে কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। অবশেষে নিশ্চিত হয়েছে, শেষ মুহূর্তে দল পাওয়া তানজিদ তামিম ছাড়া বাকি পাঁচ ক্রিকেটার—মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা, পারভেজ হোসেন ইমন ও শরিফুল ইসলাম—পিএসএলে খেলতে পারবেন। তবে তাদের ছাড়পত্র সীমিত, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বাংলাদেশির দলবিন্যাস পিএসএলে

ক্রিকেটারদলযোগদানের ধরনমন্তব্য
মোস্তাফিজুর রহমানলাহোর কালান্দার্সসরাসরি চুক্তিবাঁ-হাতি পেসার, দলের মূল অস্ত্র
পারভেজ হোসেন ইমনলাহোর কালান্দার্সনিলামমোস্তাফিজের সঙ্গে একই দলের জার্সি
রিশাদ হোসেনরাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজনিলামপাকিস্তানের ঘরের মাঠে খেলার পরিকল্পনা
নাহিদ রানাপেশোয়ার জালমিনিলামপ্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে
শরিফুল ইসলামনির্ধারিত দলডাকা হয়েছেপঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে লিগে অংশ
তানজিদ তামিমশেষ মুহূর্তে দল পেয়েছেনডাকা হয়েছেঅনাপত্তি পাননি

পিএসএল এ অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ার পর ক্রিকেটাররা দেশে ঈদের ছুটিতে অবস্থান করছেন। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সব ক্রিকেটারের NOC মঞ্জুর হয়েছে, কিন্তু নিউজিল্যান্ড সিরিজের কারণে সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে আসবে নিউজিল্যান্ড। তাই মোস্তাফিজ ও রিশাদদের পাকিস্তান থেকে সময়মতো দেশে ফিরে আসতে হবে।

এবারের পিএসএলে বাংলাদেশের পেস বোলিং শক্তি বিশেষভাবে নজরকাড়া। মোস্তাফিজুর রহমান বাঁ-হাতি পেসিং আক্রমণে দলের মূল ভরসা হিসেবে বিবেচিত। শরিফুল ইসলামের অভিষেকও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা যোগ করবে।

বিসিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, এই অনাপত্তি মঞ্জুর করা পাঁচ ক্রিকেটারের সঙ্গে তানজিদের বিষয়টি আলাদা, কারণ শেষ মুহূর্তে তার দলফল ও শিডিউল ঠিক হয় নি। ফলে পিএসএলে অংশগ্রহণে তার এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেই।

পিএসএল ২০২৬ এর এই আসরে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি এই লিগে পারফরম্যান্স তাদের আন্তর্জাতিক দলে অবস্থানও শক্ত করতে পারে।

এই আয়োজন বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে চিহ্নিত হবে, যেখানে স্থানীয় ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক মানের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদের খেলার মান বৃদ্ধি করতে পারবেন।