ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টিতে শারজা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে একপ্রকার আধিপত্য বিস্তার করেই বড় জয় তুলে নিয়েছে দুবাই ক্যাপিটালস। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়ে দুবাই। এই জয়ের দিনে দলের সাফল্যের অন্যতম বড় নায়ক ছিলেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ম্যাচটির বিশেষ আকর্ষণ ছিল দুই বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজ ও তাসকিন আহমেদের মুখোমুখি লড়াই। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিলেন মোস্তাফিজই।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মোস্তাফিজ। ৬ ডিসেম্বর গালফ জায়ান্টসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় তার। প্রথম ম্যাচ থেকেই নিজের চেনা অস্ত্র কাটার, স্লোয়ার ও নিখুঁত লাইন-লেংথে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করে চলেছেন তিনি। শুধু ১৩ ডিসেম্বর আবুধাবি নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে কিছুটা খরুচে ছিলেন এই টাইগার পেসার। তবে সেই ম্যাচ বাদ দিলে বাকি সবগুলোতেই দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
শারজা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচেও মোস্তাফিজ ছিলেন আগুনে ফর্মে। মাত্র ২ ওভার বোলিং করেই ১৩ রান খরচায় তুলে নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। পাওয়ারপ্লের চাপের সময়ে তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং শারজার ব্যাটসম্যানদের বড় শট খেলতে বাধা দেয়। বিশেষ করে উইকেটের একপ্রান্ত চেপে ধরে রেখে তিনি প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি পুরোপুরি থামিয়ে দেন, যার সুফল পায় দুবাই ক্যাপিটালস।
এই আসরে এখন পর্যন্ত মোস্তাফিজের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স আসে এমআই এমিরেটসের বিপক্ষে ম্যাচে। ১৭ ডিসেম্বর কাইরন পোলার্ডদের বিপক্ষে সে ম্যাচে দুবাই ক্যাপিটালস মাত্র ৭ রানে পরাজিত হলেও মোস্তাফিজ ছিলেন আলাদা করে চোখে পড়ার মতো। তিনি ৩৪ রান দিয়ে শিকার করেন ৩টি উইকেট, যা পরাজয়ের মাঝেও তাকে ম্যাচের অন্যতম সেরা পারফরমার হিসেবে তুলে ধরে।
প্রথম ৬ ম্যাচ শেষে মোস্তাফিজুর রহমানের উইকেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। ৮.১৯ ইকোনমি রেটে তিনি দিয়েছেন মোট ১৭২ রান। এই পরিসংখ্যান তাকে টুর্নামেন্টের সেরা বোলারদের তালিকায় তিন নম্বরে জায়গা করে দিয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন তারই সতীর্থ আফগান স্পিনার ওয়াকার সালামখিল, যিনি ৭ ম্যাচে ৭.৪৯ ইকোনমিতে ১৫ উইকেট শিকার করেছেন। সমান ১১ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন খুজাইমা তানভীর, যিনি খেলেছেন ৭টি ম্যাচ।
দুবাই ক্যাপিটালসের এই বড় জয়ের দিনে মোস্তাফিজের পারফরম্যান্স শুধু দলকে পয়েন্ট টেবিলে শক্ত অবস্থানে নিতেই সাহায্য করেনি, বরং আবারও প্রমাণ করেছে আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তিনি এখনো সমান কার্যকর ও ভয়ংকর এক বোলার। ধারাবাহিকভাবে এমন পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে টুর্নামেন্টের সেরা বোলারের দৌড়ে আরও ওপরে উঠে যাওয়ার সম্ভাবনাও জোরালোভাবে তৈরি করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান।
