মোস্তফা আলী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

মোস্তফা আলী (১৯২১–২৬ জুলাই ১৯৭৫) বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক যিনি তৎকালীন সিলেট-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

মোস্তফা আলী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

মোস্তফা আলী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

প্রাথমিক জীবন

মোস্তফা আলী ১৯২১ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের আসামের সিলেটের হবিগঞ্জ মহকুমার লাখাইয়ের মুড়িয়াউকে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৩৭ সালে ম্যাট্রিক, কলকাতা সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে ১৯৪২ সালে বিএ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪১ সালে আইন ডিগ্রী লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবন

মোস্তফা আলী আইনজীবী ছিলেন। তিনি হবিগঞ্জ বার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আওয়ামী লীগে যোগদান করে ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৪ সালে তৎকালীন হবিগঞ্জ মহকুমা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও ১৯৫৮ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭০ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি হবিগঞ্জ মহকুমা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও মুজিব নগরে বাংলাদেশ সরকারের উপআঞ্চলিক প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিলেট-১৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৭ জুলাই ১৯৭৫ সালে তিনি বাকশাল সরকারের হবিগঞ্জ মহকুমার গভর্নর নিযুক্ত হন। এছাড়াও তিনি হবিগঞ্জ শাখা রেডক্রসের চেয়ারম্যান এবং ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ মেয়াদে হবিগঞ্জ সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মৃত্যু

মোস্তফা আলী ২৬ জুলাই ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

সংসদ -সদস্য

সংসদ- সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ -সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ -সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

পরিচিতি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ -সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ -সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।

বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ -সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ -সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ -সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

 

মোস্তফা আলী । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

অবস্থান

সংসদ -সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন।

কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ -সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ -সদস্য হন।

সংসদ- সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ -সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment