মোসলেম উদ্দিন খান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

মোসলেম উদ্দিন খান যিনি হাবু মিয়া নামে পরিচিত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পাট প্রতিমন্ত্রী। জন্ম ও প্রাথমিক জীবন মোসলেম উদ্দিন খান ১৯৩০ সালে মানিকগঞ্জের গড়পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও ১৯৫৫ সালে এলএলবি পাস করেন।

মোসলেম উদ্দিন খান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

মোসলেম উদ্দিন খান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন

মোসলেম উদ্দিন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সে সময় তিনি সময় তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালে মানিকগঞ্জ বারে আইন পেশায় যোগ দিয়ে ৫০ বছরের বেশি সময় যুক্ত ছিলেন।

১৯৬৫ সালে তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমএলএ নির্বাচিত হয়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করে ১৯৭০ সালে তিনি পুনরায় এমএলএ নির্বাচিত হন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের নির্দেশে ভারতের বিহার রাজ্যে অন্যান্য এমএলএর সঙ্গে এক মাস সামরিক প্রশিক্ষণ নেন।

মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ও নির্বাচিত জেলা বারের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয়দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনসহ বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলনে তার ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের নির্দেশে ভারতের বিহার রাজ্যে এক মাস সামরিক প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের তৃতীয় মন্ত্রিসভায় পাট প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

মৃত্যু

মোসলেম উদ্দিন খান ২১ নভেম্বর ২০১৩ সালে ঢাকার পরীবাগের মডিউল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

সংসদ সদস্য

সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

পরিচিতি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।

বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

মোসলেম উদ্দিন খান । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

অবস্থান

সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

সাধারণত সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।

সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment