নরসিংদীর মাধবদীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে দেখা করতে যাওয়া ৪০ বছর বয়সী এক নারী চার সন্তানের জননী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী শুক্রবার (৬ মার্চ) মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। একইদিন বিকেলে পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত রিদয় মিয়া (৩২)কে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দার একটি মাছের খামারের পুকুর পাড়ে। ভুক্তভোগী নারী নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মেন্ডাতলা এলাকায় বসবাস করছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে নারী তার মেয়েকে নিয়ে আড়াইহাজার পৌর এলাকার বাজারে ঈদের জামা কেনাকাটায় যান। পরে মেয়েকে বাসায় পাঠান। কয়েকদিন আগে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের রিদয় মিয়ার সঙ্গে তার মোবাইলে কথাবার্তা হয়। রিদয় জানতে পারেন যে নারী বাজারে এসেছে এবং দেখা করতে চান। রাতের সময় নারী একা অটোযোগে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় পৌঁছান।
সেখানেই রিদয় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রিদয় তাকে রাস্তা থেকে পুকুরপাড়ের দিকে টেনে নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা আরও তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নারীকে ধর্ষণ করেন। পরে তারা মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগী নারী দৌড়ে পাশের একটি পাওয়ার লোম কারখানায় আশ্রয় নেন এবং ঘটনা জানান। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রধান অভিযুক্ত রিদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত হয়েছে। অভিযুক্ত ধর্ষণের বিষয় প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে।”
নিম্নলিখিত টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ভুক্তভোগী | ৪০ বছর বয়সী নারী, চার সন্তানের মা |
| ঘটনার স্থান | খামারদী পদ্মারকান্দা, কাঁঠালিয়া ইউনিয়ন, মাধবদী, নরসিংদী |
| ঘটনা তারিখ | ৫ মার্চ, রাত |
| প্রধান অভিযুক্ত | রিদয় মিয়া, ৩২ বছর, খরিয়া গ্রামের বাসিন্দা |
| অপর অভিযুক্ত | ৩ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি |
| ঘটনার ধরন | সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও লুটপাট |
| মামলা দায়ের | ৬ মার্চ, মাধবদী থানা |
| গ্রেপ্তার | রিদয় মিয়া, ৬ মার্চ |
| মেডিকেল পরীক্ষা | সম্পন্ন |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | গ্রেপ্তার আসামি আদালতে পাঠানো হবে |
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
