ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই ও আপিল প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থীরা আপিল করলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার শুনানি সম্পন্ন করে। গতকাল অনুষ্ঠিত শেষ আপিল শুনানির মাধ্যমে ৪১৭ জন প্রার্থি তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এর ফলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২২৫৩ জন। আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন। ২১ জানুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রতীক গ্রহণ করবেন।
আপিল প্রক্রিয়ায় অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে কিছু প্রার্থীর আপিল নামঞ্জুর হওয়ায় তাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বহাল থাকলেও চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনার আপিলের সিদ্ধান্ত দেন। কমিশন জানায়, দ্বৈত নাগরিকদের মধ্যে বিএনপির দুই প্রার্থীকে বাদ দিয়ে বাকিদের বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। কুমিল্লা-৩ এবং কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার বৈধ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে আপিল করা হলেও, তিনি নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দেওয়ায় আপিল নামঞ্জুর হয়।
ঢাকা-৪ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান এবং টাঙ্গাইল-৪ আসনের সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্রও বহাল রাখা হয়েছে। কমিশনের শুনানি শেষে উভয় প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনী আপিল প্রক্রিয়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল:
| আসন | প্রার্থী | দল/স্বতন্ত্র | প্রার্থিতা অবস্থা |
|---|---|---|---|
| চট্টগ্রাম-৪ | আসলাম চৌধুরী | বিএনপি | বহাল |
| চট্টগ্রাম-২ | সারোয়ার আলমগীর | বিএনপি | বাতিল |
| ফেনী-৩ | আবদুল আউয়াল মিন্টু | বিএনপি | বহাল |
| ঢাকা-৪ | মিজানুর রহমান | স্বতন্ত্র | বহাল |
| টাঙ্গাইল-৪ | লতিফ সিদ্দিকী | স্বতন্ত্র | বহাল |
এদিকে, দ্বৈত নাগরিক প্রার্থিতা নিয়ে সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। নাগরিক মামুন হাওলাদার এ বিষয়ে সিইসিকে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ ও কঠোর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এভাবে আপিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে সকল বৈধ প্রার্থীর অবস্থান চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে, যা নির্বাচনী প্রস্তুতির শেষ ধাপ হিসেবে গণ্য হবে।
