মোখায় বিধ্বস্ত ১২ হাজার বাড়ি

মোখায় বিধ্বস্ত ১২ হাজার বাড়ি। ঘূর্ণিঝড় মোখার শক্তি সিডারের কাছাকাছি ছিল। কিন্তু সিডারে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছিল, মোখার আঘাতে ততটা ক্ষতি হয়নি বলেই মনে করছেন কক্সবাজার প্রশাসন। উপকূলবর্তী অঞ্চলে ১২ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে প্রায় তিন লাখ মানুষের।

তবে ঝড়টি স্থলভাগে ঢোকার সময় গতি খানিকটা কমায়। মূল ঝাপটা মিয়ানমারের উপর দিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চল খানিকটা হলেও বেঁচে গেছে।

মোখায় বিধ্বস্ত ১২ হাজার বাড়ি

প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনে ৪২০টি নারকেলগাছসহ অন্তত ৩ হাজার গাছগাছালির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে আহত হয়েছেন ১১ জন। এ ছাড়া জলোচ্ছ্বাসে দ্বীপটির উত্তর পাড়া, পশ্চিম পাড়া ও পূর্ব দিকের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

রোববার (১৪ মে) বিকেলে কক্সবাজার লাবণী পয়েন্টে সমুদ্র সৈকত পরিদর্শনে এসে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানান, ‘ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবে কক্সবাজার জেলায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সেন্ট মার্টিনে। বৃষ্টি এবং বাতাসের গতিবেগ বেশি হওয়ায় এ জেলায় প্রায় ১২ হাজার বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেন্ট মার্টিনে ১ হাজার ২০০ বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

মোখায় বিধ্বস্ত ১২ হাজার বাড়ি

তিনি আরও বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোখায় কক্সবাজারে ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় দেয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করা হবে।’

রোববার (১৪ মে) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আঘাত হানে মোখা। এখন পর্যন্ত কারো নিহত হওয়ার খবর মেলেনি। ঝড়ের পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, ‘আমরা পাঁচ বছরে যত দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি, তার মধ্যে এবারের আয়োজন ছিল সর্বোচ্চ। কোথাও কোনো লুপহোল ছিল না।’

 

মোখায় বিধ্বস্ত ১২ হাজার বাড়ি

 

আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, মূলত তিনটি কারণে ঝড়ের তাণ্ডব মাত্রাছাড়া হয়নি। এক, ঝড়ের কেন্দ্র মিয়ানমারের দিকে সরে গেছিল, ঝড়টি অপেক্ষাকৃত দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং তিন, সাগরে ভাটা চলছিল। ফলে জলোচ্ছ্বাস হলেও তার ভয়াবহতা অনেক কম ছিল।

Leave a Comment