পুরান ঢাকার কলতাবাজারের ওয়াসা পানির পাম্প এলাকায় রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবা সুলতানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাকিবা তার মেস রুমে একা ছিলেন এবং দরজা বন্ধ থাকায় বান্ধবী ও রুমমেটরা কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর বাড়িওয়ালার সহায়তায় দরজা ভেঙে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পান।
নিহতের ভাই নাঈম হোসেন জানিয়েছেন, রাকিবা তার মাকে ফোনে জানিয়েছিলেন যে তার শরীর ভালো নেই এবং পরে কথা বলবে। এরপর আর পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না। পরে তার বান্ধবীরা মেসে গিয়ে দরজা বন্ধ পেয়ে বাড়িওয়ালার সহায়তায় দরজা ভেঙে মরদেহ দেখতে পান।
রুমমেটরা জানিয়েছেন, সারাদিন রাকিবার রুমের দরজা বন্ধ ছিল। রাত ৯টার দিকে বান্ধবী এসে দরজা ধাক্কা দেওয়ার পরও কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়িওয়ালার সহায়তা নেন। দরজা ভেঙে অবস্থাটি চোখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা পুলিশকে খবর দেন।
কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আপাতদৃষ্টিতে এটি আত্মহত্যা বলে মন্তব্য করা যাচ্ছে না। বিস্তারিত পোস্টমর্টেমের পর জানা যাবে। বর্তমানে ঢালাওভাবে কিছু বলা ঠিক হবে না।”
সহকারী প্রক্টর ফেরদৌস হাসান বলেন, লাশ মিডফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
রাকিবা সুলতানার পরিবার ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলায়। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহত শিক্ষার্থীর তথ্য সংক্ষেপে:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | রাকিবা সুলতানা |
| বিশ্ববিদ্যালয় | জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় |
| বিভাগ | ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি |
| ব্যাচ | ২০তম |
| বয়স | জানা যায়নি |
| গ্রামের বাড়ি | দেবহাটা, সাতক্ষীরা জেলা |
| ঘটনার স্থান | কলতাবাজার, ওয়াসা পানির পাম্প, ঢাকা |
| সময় | ৮ ফেব্রুয়ারি, রাত ৯:৩০ টা (প্রায়) |
| উদ্ধারকারী | পুলিশ ও বাড়িওয়ালা |
| প্রাথমিক মন্তব্য | আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা নয়, পোস্টমর্টেমে বিস্তারিত জানা যাবে |
স্থানীয়রা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা শোকস্তব্ধ এবং প্রশাসন মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য পোস্টমর্টেম ও ফোরেনসিক রিপোর্টের উপর নির্ভর করা হবে।
