লিওনেল মেসি—ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য নাম—বয়সের হিসেবে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছালেও তাঁর পারফরম্যান্স এখনো বিস্ময় জাগায়। পাসপোর্টের পাতায় বয়স প্রায় ৩৯ ছুঁইছুঁই, কিন্তু মাঠে তাঁর ছন্দ, নিয়ন্ত্রণ আর গোল করার ক্ষুধা এখনও তরুণদের মতোই তীক্ষ্ণ। এমন এক সময়েই সামনে আসছে বিশ্বকাপ, যেখানে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য শিরোপা ধরে রাখা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—এই বয়সে মেসির জন্য কি বাড়তি বিশ্রাম প্রয়োজন?
তবে এই প্রচলিত ধারণার বিপরীতে ভিন্ন মত দিয়েছেন ইন্টার মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাচেরানো। তাঁর মতে, মেসির ক্ষেত্রে বিশ্রামের চেয়ে নিয়মিত খেলাই বেশি কার্যকর। তিনি মনে করেন, মাঠে সক্রিয় থাকলেই মেসি শারীরিক ও মানসিকভাবে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় থাকেন।
বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা দল ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রীতি ম্যাচের সূচি নির্ধারণ করেছে। আগামী শুক্রবার মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে এবং ৩১ মার্চ জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। এই দুই ম্যাচেই মেসির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাঁর প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
মেসি নিজে এখনো বিশ্বকাপে খেলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। বরাবরের মতোই তিনি ধাপে ধাপে এগোনোর কৌশল নিচ্ছেন। প্রতিটি ম্যাচের পর শরীরের অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। তবে বড় কোনো ইনজুরি না হলে বিশ্বকাপে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে খুব বেশি সংশয় নেই।
সম্প্রতি ইন্টার মায়ামির হয়ে নিউইয়র্ক সিটির বিপক্ষে ম্যাচে গোল করে ক্যারিয়ারের ৯০১তম গোল পূর্ণ করেছেন মেসি। এটি প্রমাণ করে যে, বয়স সত্ত্বেও তাঁর গোল করার দক্ষতা এখনও অটুট। ম্যাচ শেষে বিশ্রাম প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে মাচেরানো অনলাইনে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মেসির মতো খেলোয়াড়ের জন্য খেলার ধারাবাহিকতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই মেসির যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করি। তবে বাস্তবতা হলো, সে মাঠে থাকলেই সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। নিয়মিত খেললে তার শরীরেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।”
কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর ইন্টার মায়ামির সামনে এখন মূলত মেজর লিগ সকারের ম্যাচগুলোই রয়েছে। ফলে সূচি তুলনামূলকভাবে কম চাপযুক্ত। সপ্তাহে সাধারণত একটি ম্যাচ থাকায় মেসির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার সম্ভাবনাও কম।
নিচের টেবিলে মেসির সাম্প্রতিক অবস্থা ও সূচির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বর্তমান বয়স | প্রায় ৩৯ বছর |
| সর্বশেষ গোল সংখ্যা | ৯০১ |
| ক্লাব | ইন্টার মায়ামি |
| আসন্ন ম্যাচ (আর্জেন্টিনা) | মৌরিতানিয়া, জাম্বিয়া |
| বিশ্বকাপ শুরুর তারিখ | ১১ জুন |
| ক্লাব সূচি | সপ্তাহে প্রায় ১ ম্যাচ |
মাচেরানো আরও জানান, দলের লক্ষ্য অর্জনে মেসি অপরিহার্য। তাঁর উপস্থিতি শুধু পারফরম্যান্স নয়, পুরো দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয়।
মেসি ও মাচেরানোর সম্পর্কও দীর্ঘদিনের—বার্সেলোনা থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল, এখন ইন্টার মায়ামি—সব জায়গাতেই তাঁদের বোঝাপড়া দারুণ। ফলে কোচ হিসেবে মাচেরানো জানেন কখন মেসিকে চাপ দিতে হবে, আর কখন তাকে সুরক্ষা দিতে হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিশ্বকাপের আগে মেসিকে ঘিরে কোনো তাড়াহুড়া নেই। বরং সুচিন্তিত পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রিত ম্যাচ অংশগ্রহণ এবং শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখার মধ্য দিয়েই তাঁকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আর যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তাহলে আরেকটি বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো আবারও দেখতে পাবেন সেই চিরচেনা জাদুকর মেসিকে।
