কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার হোসেনপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় তদন্তকারীরা একটি চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজি ও হত্যার চক্র উন্মোচন করেছেন। 지난해 ৭ ডিসেম্বর গৃহবধূ সাবিনা আক্তারের রহস্যময় মৃত্যুর পর থেকে তার পিতা ময়নাল হোসেন স্থানীয় মানুষদের হত্যার ভয়ে অর্থ আদায় করে আসছিলেন। এই চক্রের সর্বশেষ ঘটনা ২১ মার্চ ঈদের দিনে ঘটে, যেখানে একজন প্রতিবন্ধী মেয়ে মরিয়ম আক্তার (২১) মারা গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিয়ম একই ইউনিয়নের কংগাই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের কন্যা। পিতার মৃত্যুর পর মায়ের সঙ্গে মামার বাড়ি হোসেনপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করত। ঈদের দিন বিকেলে নিহত সাবিনার দেবর হাসানকে গ্রেফতারের ভয়ে মারধর শুরু করা হয়, যার সময় মরিয়ম বাধা দিতে গেলে তার ওপরও সহিংসতা চালানো হয় এবং ঘটনাস্থলেই সে মৃত্যুবরণ করে।
ময়নাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষদের হত্যার ভয়ে অর্থ আদায় করতেন। তার সহযোগী ছিলেন মনির হোসেন, রিপন ও মাহবুব। তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে প্রথমে টাকা আদায় করতেন এবং চূড়ান্ত লেনদেনের দায়িত্ব হতো ময়নাল হোসেনের। প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, গত তিন মাসে ১২ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৯ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
ঘটনার সময়রেখা ও মূল তথ্য
| তারিখ | ঘটনা | আক্রান্ত / ঘটনা বর্ণনা |
|---|---|---|
| ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | সাবিনা আক্তারের মৃত্যু | বাথরুমে লাশ পাওয়া যায়, পুলিশ মামলা দায়ের |
| ২১ মার্চ ২০২৬ | মরিয়ম আক্তারের মৃত্যু | হত্যার সময় হাসানকে মারধরের ঘটনায় মরিয়ম নিহত |
| ২১ মার্চ ২০২৬ | পুলিশ অভিযান | ময়নাল হোসেনকে গ্রেফতার, তদন্ত শুরু |
চান্দিনা থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, “সাবিনা হত্যার পর ময়নাল হোসেন এলাকায় ভয় সৃষ্টি করে অর্থ আদায় করছিলেন। এই ঘটনায় বিভিন্ন ভুক্তভোগী থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। মৃত মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে ময়নাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, ময়নাল হোসেনের এই ফাঁদে অনেকেই ফেঁসে গেছেন। এছাড়া নিহতদের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট তদন্তকারীদের জন্য মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তাধীন এবং আশা করা হচ্ছে, দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
এই ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারিক বিবাদ নয়, বরং এলাকায় চাঁদাবাজি ও হত্যার ভয় ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের ভয়াবহ চক্রকেও প্রকাশ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক করে জানিয়েছে, এমন চক্র বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়নাল হোসেনের গ্রেফতারের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত দুটি হত্যাকাণ্ড ও বিভিন্ন চাঁদাবাজি মামলার তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
