মৃত্যু গুজবের মধ্যে ইমরান খানের সমর্থকদের বিক্ষোভ ঠেকাতে রাওয়ালপিণ্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর রাওয়ালপিণ্ডিতে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের সভা, সমাবেশ, মিছিল, অবস্থান বা ধর্মঘট নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যখন পাকিস্তানি তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) দলের নেতারা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ ডাকার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ডেপুটি কমিশনার ড. হাসান ওয়াকার চীমা স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, ১লা ডিসেম্বর থেকে ৩রা ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০২৪ সালের কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (পাঞ্জাব সংশোধনী) আইনের ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে।

নিষিদ্ধ কার্যক্রম

নিচের টেবিলে ১৪৪ ধারার আওতায় নিষিদ্ধ কার্যক্রমগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

কার্যক্রমব্যাখ্যা
সভা ও সমাবেশপাঁচ বা ততোধিক মানুষের জমায়েত
অবস্থান ও বিক্ষোভকোনো স্থানে দীর্ঘ সময় অবস্থান বা প্রতিবাদ
মিছিল ও র‍্যালিজনসমাবেশের মাধ্যমে প্রকাশ্য যাত্রা বা শোভাযাত্রা
ধর্মঘট ও জলসাশ্রমিক, সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিক দলের ধর্মঘট/জলসা
অস্ত্র বহনহুমকিস্বরূপ অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহন
উস্কানিমূলক বক্তৃতাশান্তি বিঘ্নিত করতে এমন বক্তৃতা করা
লাউডস্পিকার ব্যবহারঅনুমতি ছাড়া প্রকাশ্য শব্দ ব্যবহার
পুলিশের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গসরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা

অধিকর্তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ থাকায় জননিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ইমরান খানের অবস্থান

ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন। তার পরিবার অভিযোগ করেছে, গত এক মাসে তাদেরকে তাকে দেখা যায়নি। ছেলে কাসিম খান জানিয়েছেন, তারা বাবার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাননি এবং স্বতন্ত্রভাবে কোনো যোগাযোগও করতে পারেননি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিশৃঙ্খলা রোধ করা সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধৈর্য্য ও শান্তিপূর্ণ আচরণও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।