আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ক্রিকেট বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিসি-র (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) কাছে এক নজিরবিহীন ও কঠোর বার্তা পাঠাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাম্প্রতিক সময়ে আইপিএল থেকে তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং এর ফলে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা শঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার রাতে বিসিবির এক জরুরি সভায় উপস্থিত ১৭ জন পরিচালক সর্বসম্মতভাবে একমত হন যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্রিকেটারদের সুরক্ষা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের আলোকে রোববার আইসিসির সিকিউরিটি ইউনিটের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিসিবি।
বোর্ডের এই উদ্বেগের মূলে রয়েছে আসন্ন বিশ্বকাপের সূচি। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রথম পর্বের চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিই অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে হঠাৎ সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব মাঠে থাকা ক্রিকেটারদের ওপর পড়তে পারে বলে বিসিবি জোরালো আশঙ্কা করছে। বিশেষ করে ভারতের মাটিতে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত বোর্ড কর্মকর্তারা।
আইসিসির কাছে বিসিবির উত্থাপিত প্রধান পাঁচটি দাবি ও পর্যবেক্ষণ
| ক্রমিক | বিষয়বস্তু | বিসিবির সুনির্দিষ্ট অবস্থান |
| ১ | ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা | বিশ্বকাপ চলাকালীন বাংলাদেশ দলের জন্য নিশ্ছিদ্র প্রটোকল নিশ্চিত করা। |
| ২ | মুস্তাফিজের নিরাপত্তা | মুস্তাফিজের প্রতি ঘটা আচরণের ব্যাখ্যা ও তার ব্যক্তিগত সুরক্ষা। |
| ৩ | কর্মকর্তাদের সুরক্ষা | টিমের সঙ্গে থাকা বোর্ড সদস্য ও ম্যানেজমেন্টের নিরাপত্তা। |
| ৪ | দর্শকদের নিরাপত্তা | গ্যালারিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি সমর্থক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা। |
| ৫ | জরুরি পরিকল্পনা | যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসিসির বিকল্প পরিকল্পনা। |
বিসিবির শীর্ষ পর্যায়ের এক পরিচালক জানিয়েছেন, এই চিঠি কেবল একটি সাধারণ দাপ্তরিক যোগাযোগ নয়, বরং এটি খেলোয়াড়দের মর্যাদার লড়াই। মুস্তাফিজকে ঘিরে যে ধরনের অপেশাদার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বিসিবি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। চিঠিতে আইসিসি-র কাছে জানতে চাওয়া হবে, ভবিষ্যতে কোনো ক্রিকেটারের সাথে যেন এমন আচরণ না ঘটে, সে বিষয়ে আইসিসি-র নীতিমালা কী। এছাড়া, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে ম্যাচ চলাকালীন কোনো ধরনের উগ্র পরিস্থিতি তৈরি হলে আইসিসি কীভাবে তা সামাল দেবে, তার লিখিত নিশ্চয়তা চাইবে বিসিবি।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বিসিবির এই পদক্ষেপটি ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় হতে পারে। যদি আইসিসির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বা সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া না যায়, তবে বোর্ড ক্রিকেটারদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বকাপে পাঠানোর ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা করতে পারে। এই চিঠিটি মূলত আইসিসি এবং বিসিসিআই-এর প্রতি বিসিবির একটি জোরালো সংকেত যে, বাংলাদেশ এখন থেকে তার ক্রিকেটারদের সম্মান ও নিরাপত্তাকে সবকিছুর উর্ধ্বে স্থান দেবে। রোববারের এই চিঠির পর আইসিসি কী জবাব দেয়, তার ওপরই এখন নির্ভর করছে আসন্ন বিশ্বকাপের গতিপথ।
