কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ইটভাটা ব্যবসা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক বিতর্ক এবং অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইটভাটা মালিকদের অভিযোগ, সাবেক উপজেলা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং তার পিতা বিল্লাল মাস্টার ঘনিষ্ঠ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে জামায়াত নেতা জালাল হাজী এলাকার ব্রিকফিল্ড ব্যবসা ও সরবরাহ চেইনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যে জালাল হাজী নিজের বাড়িতে একটি প্রীতি ভোজের আয়োজন করেন। ওই অনুষ্ঠানে বিল্লাল মাস্টারসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সেই সময়ের পরপরই জালাল হাজী মুরাদনগর উপজেলা ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জালাল হাজীর মাধ্যমে মুরাদনগরের ইটভাটাগুলো থেকে অবৈধ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ব্রিকফিল্ড লেনদেনের সময় প্রায় অর্ধ কোটি থেকে কোটি টাকার চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ ও ফসলি জমির মাটি অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের মতে, জালাল হাজীর কর্মকাণ্ডে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতারা যুক্ত। তিনি স্থানীয় জামায়াত রাজনীতিতে সক্রিয় এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নবীপুর এলাকার দুটি ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন ও নির্বাচনী তহবিলে অর্থ সহায়তা করেছেন।
অতি সম্প্রতি গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন একটি ব্রিকফিল্ডকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নদীর বেড়িবাঁধের ভিতর থেকে মাটি কেটে ও বালু উত্তোলন করে ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাঁধের স্থায়িত্ব ও নদী শাসনের জন্য বিপজ্জনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মদিনা ব্রিকফিল্ড নামের জালাল হাজীর প্রতিষ্ঠান ফসলি জমি ও নদীর তীরবর্তী বাঁধের মাটিও অবৈধভাবে ব্যবহার করছে। এতে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি যেমন নজরুল, সালাউদ্দিন ও রাজনৈতিক কর্মীরাও অংশগ্রহণ করছেন।
অভিযোগ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়াবলী সংক্ষেপে:
| বিষয় | অভিযোগ / ঘটনা | প্রভাব / ঝুঁকি |
|---|---|---|
| ইটভাটা লেনদেন | প্রতি লেনদেনে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা চাঁদা আদায় | ব্যবসায়ীদের আর্থিক চাপ ও অনৈতিক প্রভাব |
| ফসলি জমি ব্যবহার | মাটি সংগ্রহ ও ইটভাটায় ব্যবহার | কৃষি জমির উর্বরতা ক্ষয় ও কৃষকের ক্ষতি |
| নদীর বেড়িবাঁধে মাটি কাটা | গোমতী নদীর বাঁধের ভিতর থেকে মাটি উত্তোলন | বাঁধের স্থায়িত্বহানি ও নদী শাসনের ঝুঁকি |
| রাজনৈতিক প্রভাব | নির্বাচনী তহবিল ও স্থানীয় রাজনৈতিক সংযোগ | ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব বিস্তার |
অভিযুক্ত জালাল হাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নেই। তবে সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ফলে, মুরাদনগরের ইটভাটা ব্যবসা এবং ফসলি জমি সংক্রান্ত এই কর্মকাণ্ড স্থানীয় পরিবেশ, কৃষি ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্য উদ্বেগজনক, যা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে
