বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন প্রধান ক্রিকেটারের বিদেশি লিগে খেলার অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদন অনুযায়ী জাতীয় দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক, পেস বোলার মোস্তাফিজুর রহমান এবং তাসকিন আহমেদ আগামী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্লাব লিগে অংশগ্রহণ করবেন। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করা, যাতে তারা জাতীয় দলের জন্য আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। অনুমোদনকৃত খেলোয়াড়রা নিজ নিজ লিগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের জন্য প্রস্তুতি উন্নত করবেন।”
মুমিনুল হক ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছেন। তিনি ব্ল্যাকটাউন ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস গ্রেড ক্রিকেটে খেলবেন। এই লিগটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম উচ্চ মানের স্থানীয় লিগ, যেখানে অতীতে ক্রিকেট বিশ্বে সুপরিচিত তারকারা যেমন স্টিভ স্মিথ ও মিচেল স্টার্ক অংশগ্রহণ করেছেন।
মোস্তাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার রাতের ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইএল টি২০ লিগে খেলবেন। তিনি দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে মাঠে নামবেন। তাসকিন আহমেদও একই লিগে অংশ নেবেন, তবে শারজা ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলবেন। বিসিবি নিশ্চিত করেছে যে বিপিএল শুরুর আগে এই দুই ক্রিকেটার দেশে ফিরে আসবেন।
এর আগে, বিসিবি লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেনকে বিগ ব্যাশ লিগে খেলার অনুমতি দিয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই লিগে তিনি হোবার্ট হারিকেনসের হয়ে খেলবেন। এই ধারাবাহিক অনুমোদনের ফলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে, যা দেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নিচের টেবিলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের বিদেশি লিগে অংশগ্রহণের বিস্তারিত তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| ক্রিকেটার | দেশ/লিগ | দল | অংশগ্রহণের সময়কাল |
|---|---|---|---|
| মুমিনুল হক | অস্ট্রেলিয়া, NSW গ্রেড ক্রিকেট | ব্ল্যাকটাউন ডিস্ট্রিক্ট | ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত |
| মোস্তাফিজুর রহমান | সংযুক্ত আরব আমিরাত, আইএল টি২০ | দুবাই ক্যাপিটালস | ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত |
| তাসকিন আহমেদ | সংযুক্ত আরব আমিরাত, আইএল টি২০ | শারজা ওয়ারিয়র্স | ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত |
| রিশাদ হোসেন | অস্ট্রেলিয়া, বিগ ব্যাশ লিগ | হোবার্ট হারিকেনস | ১৪ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে |
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিসিবি নিশ্চিত করছে যে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বিদেশি লিগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারবে এবং আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।
