অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভয়শূন্য পরিবেশ চায় বিএনপি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ক্রমবর্ধমান সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল নির্বাচন বানচালের হীন উদ্দেশ্যে দেশজুড়ে গুপ্ত হামলা ও নাশকতার ছক কষছে। তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সর্বাগ্রে জনমনে বিদ্যমান শঙ্কা দূর করে দেশে ‘ভয়শূন্য’ পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতার ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ

গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) গভীর রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লা (৪২) গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। তিনি অভিযোগ করেন যে, গণতন্ত্রকামী মানুষের মনোবল ভেঙে দিতেই তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রিয় নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

এক নজরে কেরানীগঞ্জের হামলা ও প্রার্থীর দাবিসমূহ:

তথ্যের বিবরণবিস্তারিত তথ্য ও বর্তমান চিত্র
আক্রান্ত নেতাহাসান মোল্লা (৪২), সাধারণ সম্পাদক, হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপি।
ঘটনার স্থানকেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলাধীন দলীয় কার্যালয়ের সম্মুখভাগ।
ঘটনার সময়২২ জানুয়ারি, ২০২৬; দিবাগত রাত।
আঘাতের ধরণআগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে বিদ্ধ ও গুরুতর জখম।
মহাসচিবের প্রধান দাবিহামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
রাজনৈতিক সতর্কবার্তাঅপরাধীদের আইনের আওতায় না আনলে বড় নাশকতার আশঙ্কা।

‘ঘাঁপটি মারা দুষ্কৃতকারী’ ও নাশকতার শঙ্কা

বিএনপি মহাসচিব তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শক্তির পতনের পর পরাজিত সেই শক্তির দোসররা এখনও প্রশাসনের আনাচে-কানাচে এবং রাজপথে ‘ঘাঁপটি মেরে’ বসে আছে। তারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে এবং অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ধূলিসাৎ করতে অরাজকতা সংঘটিত করছে। তিনি বলেন, “হাসান মোল্লার ওপর এই বর্বরোচিত হামলা প্রমাণ করে যে দুষ্কৃতকারীরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এদের এখনই দমন করা না হলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে সাহস পাবে না।”

জানমালের নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্যের ডাক

দেশের ক্রমবর্ধমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে শঙ্কা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা সরকারের প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি দল-মত নির্বিশেষে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইকে সফল করতে হলে সাহসের সাথে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলনিরপেক্ষ হয়ে কাজ করার এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর সাজা প্রদানেরও দাবি জানান তিনি।

আহতদের প্রতি সমবেদনা ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আহত হাসান মোল্লাসহ সারা দেশে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি সরকারকে মনে করিয়ে দেন যে, কেবল প্রশাসন দিয়ে নির্বাচন হয় না; একটি সফল নির্বাচনের জন্য জনমনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা অপরিহার্য। তিনি অবিলম্বে কেরানীগঞ্জের এই হামলার প্রকৃত তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান।

উপসংহার

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ ও সহিংসতা ততই তীব্র হচ্ছে। কেরানীগঞ্জের এই ঘটনা পুনরায় প্রমাণ করল যে, সুষ্ঠু নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি মহাসচিবের দেওয়া ‘ভয়শূন্য পরিবেশ’ নিশ্চিত করার দাবিটি কেবল বিএনপির নয়, বরং এটি সাধারণ ভোটারদেরও প্রাণের দাবি।