মুখোমুখি দুই ভাই, মা কাকে ভোট দেবেন?

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে মরকেল পরিবার যেন এক অনন্য ক্রীড়া কিংবদন্তি। সাবেক পেসার আলবার্ট মরকেলের তিন সন্তান—বড় ছেলে আলবি মরকেল, মধ্যম ম্যালান মরকেল এবং ছোট ছেলে মরনে মরকেল—ও ক্রিকেটের জগতে একইভাবে পরিচিত। ক্রিকেট খেলুড়ে এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের প্রতিভা আলাদা ধরণের।

বড় ছেলে আলবি কখনো অলরাউন্ডার হিসেবে দারুণ সম্ভাবনা দেখিয়েছিলেন। যদিও তার সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি বিকশিত হয়নি, তবু তার অর্জন অনেকের কাছে স্বপ্নের সমতুল্য। মধ্যম ছেলে ম্যালান ছিলেন ফাস্ট বোলিংয়ে প্রতিভাবান এবং তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব–১৯ দল পর্যন্ত খেলেছেন। আর ছোট ছেলে মরনে মরকেল তো বিশ্ববাসীর কাছে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস কিংবদন্তি।

শৈশবে বাড়ির পাশে ছোট্ট মাঠে তিন ভাই যখন টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট খেলতেন, তখন নিশ্চয়ই কখনও কখনও ছোটখাটো বাদানুবাদ হতো। সেই সময় মারিয়ানা মরকেলকে (তাদের মা) নিরপেক্ষ হয়ে দুই সন্তানকে সমানভাবে সমর্থন করতে দেখা যেত। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন: আহমেদাবাদে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার সুপার এইটের মুখোমুখি ম্যাচে মারিয়ানা দুই ছেলে—মরনে এবং আলবি—দুই দলের পক্ষে।

ছেলেবয়সভূমিকাবর্তমান সংযুক্তি
আলবি মরকেল44স্পেশালিস্ট কনসালট্যান্টদক্ষিণ আফ্রিকা দল
মরনে মরকেল38বোলিং কোচভারতের দল
ম্যালান মরকেল40প্রাক্তন অনূর্ধ্ব–১৯ ফাস্ট বোলার

এ ধরনের পরিস্থিতি মারিয়ানার জন্য মানসিক চাপের কারণ। যেহেতু একজনকে সমর্থন করলে অপরজনকে হারতে দেখতে হবে। আলবি বলেন, “আমাদের মধ্যে কথা হয় না। মা সম্ভবত আমাদের চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। তিনি জানেন না কাকে সমর্থন করবেন, ভারত না দক্ষিণ আফ্রিকা।”

আলবি মরকেলের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ৫৮ ওয়ানডে, ৫০ টি–টুয়েন্টি এবং ১টি টেস্ট পর্যন্ত বিস্তৃত। মরনে মরকেল ৮৬ টেস্টে ৩০৯ উইকেট নেন, যা তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

দুই ভাই আগে একই দলের কোচিং স্টাফে থাকলেও এখন আলাদা পথে। আলবি দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেশালিস্ট কনসালট্যান্ট, আর মরনে ভারতের বোলিং কোচ। আইপিএলে আলবি চেন্নাই সুপার কিংসের কোচিং স্টাফে কাজ করেছেন, মরনে লখনউ সুপার জায়ান্টস ও পাকিস্তানের বোলিং কোচ ছিলেন।

মরকেল ভাইদের গল্প আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যতিক্রমী। অতীতের অনেক ক্রীড়া ভাই একই দলের সদস্য ছিলেন; তবে আলবি ও মরনে এখন মুখোমুখি। সতীর্থ থেকে কোচ—এভাবে জীবনের নতুন পর্যায়ে তারা আবার একে অপরের বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন।

মারিয়ানার জন্য এককথায় সহজ সমাধান নেই। দুই সন্তানেরই সমর্থনে তিনি, কিন্তু খেলাধুলায় একসঙ্গে থাকা সম্ভব নয়। এই অবস্থাই তাকে সবচেয়ে বড় মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে।