ঢাকা–৮ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিবার সকাল ১১:২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তাঁকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। মির্জা আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, বড় ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস এবং একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল।
এর আগে সকাল ৯:১০ মিনিটে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় এসে পৌঁছেছিল, যা মির্জা আব্বাসকে বহন করার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল।
মির্জা আব্বাস গত বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান। রাতেই তাঁকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অবিলম্বে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তাঁর মস্তিষ্কে দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। শনিবার সকালে করা সিটি স্ক্যানের ফলাফল ইতিবাচক ও স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ রাখছেন। শুক্রবার দুপুরে নিজেই এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নিয়েছিলেন।
চিকিৎসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং পরিবারের উপস্থিতি নিচের টেবিলে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| রোগী | মির্জা আব্বাস |
| বয়স | ৬৭ বছর (আনুমানিক) |
| পদবি | সংসদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা |
| ভর্তি হাসপাতাল | এভারকেয়ার হাসপাতাল, বসুন্ধরা |
| অস্ত্রোপচার | মস্তিষ্কে ২টি |
| স্ক্যান ফলাফল | ইতিবাচক, স্থিতিশীল |
| সঙ্গী | স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস, ব্যক্তিগত চিকিৎসক |
| রওনা সময় | ১১:২৫ এএম, রবিবার |
| রওনা স্থান | হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা |
| গন্তব্য | সিঙ্গাপুর (উন্নত চিকিৎসা) |
মির্জা আব্বাস বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখছেন। তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ও সমর্থনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিদেশে উন্নত চিকিৎসা তাঁকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যবেক্ষকরা তাঁর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। দেশের এবং আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ চিকিৎসা সংক্রান্ত আপডেটের প্রতি নজর রাখছেন। চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই যাত্রার মাধ্যমে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা আরও স্থিতিশীল হবে এবং তিনি দ্রুত স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে সক্ষম হবেন।
