মিরপুরে প্রস্তুতি ম্যাচে সাইফের সেঞ্চুরি, তাসকিনের চার উইকেট শিকার

নিউজিল্যান্ড সিরিজকে সামনে রেখে দীর্ঘ ফিটনেস ও স্কিল ক্যাম্প শেষে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ঘরোয়া প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সম্ভাব্য স্কোয়াড। সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ৫০ ওভারের এই ম্যাচে দুই ভাগে বিভক্ত ‘এ’ দল দাপুটে পারফরম্যান্সে ‘বি’ দলকে ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই আলো ছড়ান সাইফ হাসান ও তাসকিন আহমেদ।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে টিম ‘এ’। শুরু থেকেই পরিকল্পিত ব্যাটিংয়ে তারা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২৯২ রান, যা পরে ম্যাচে জয় নিশ্চিত করার মতো পুঁজি হয়ে দাঁড়ায়। ইনিংসের প্রাণভোমরা ছিলেন ওপেনার সাইফ হাসান, যিনি ১৩৩ বলে ১৩৮ রানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন। তার ইনিংসে ছিল ধৈর্য, নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ এবং সময়মতো গিয়ার পরিবর্তনের নিখুঁত মিশ্রণ, যা পুরো দলের স্কোরিং ভিত্তি গড়ে দেয়।

সাইফের ইনিংসের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাটাররাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাওহীদ হৃদয় ২৫ রান, আফিফ হোসেন ধ্রুব ৩৪ রান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ২০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে তানজিম হাসান সাকিব মাত্র ১৩ বলে ২৭ রানের ঝোড়ো ক্যামিও খেললে স্কোর ৩০০-এর কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৭, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১২ এবং লিটন দাস ৯ রানে ব্যর্থ হন।

টিম ‘বি’র বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি ৮ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া তানজিম হাসান ও আফিফ হোসেন একটি করে উইকেট নেন। তবে বড় রান আটকাতে পুরো বোলিং ইউনিটই কার্যকর চাপ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে টিম ‘বি’। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৩৬.৩ ওভারে মাত্র ১৬৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় দলটি, ফলে ‘এ’ দল জয় পায় বিশাল ১২৮ রানের ব্যবধানে।

টিম ‘বি’র হয়ে ওপেনার সৌম্য সরকার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ৮৫ বলে ৫৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও দলের হার এড়াতে পারেননি। এছাড়া শামীম পাটোয়ারী ৩১ রান, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ২৪ রান এবং নুরুল হাসান সোহান ও মোসাদ্দেক হোসেন ১৫ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দেন।

বল হাতে ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন তাসকিন আহমেদ। গতি, সুইং ও লাইন-লেংথের নিখুঁত মিশেলে তিনি ৬ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তার আগ্রাসী স্পেলে টিম ‘বি’র ব্যাটিং অর্ডার দ্রুত ভেঙে পড়ে এবং ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।

নিচে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

বিভাগখেলোয়াড়পারফরম্যান্স
ব্যাটিংসাইফ হাসান১৩৮ রান (১৩৩ বল)
ব্যাটিংসৌম্য সরকার৫৫ রান (৮৫ বল)
ব্যাটিংতানজিম সাকিব২৭ রান (১৩ বল)
বোলিংতাসকিন আহমেদ৪ উইকেট (৬ ওভারে ২৭ রান)
বোলিংমেহেদী হাসান মিরাজ২ উইকেট (৮ ওভারে ৫৫ রান)

বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো সাইফ হাসানের দীর্ঘ ইনিংস এবং তাসকিন আহমেদের ধারাবাহিক বোলিং ফর্ম। নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে এই দুই পারফরম্যান্স দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আত্মবিশ্বাস হিসেবে কাজ করবে।

সব মিলিয়ে, প্রস্তুতি ম্যাচটি বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং গভীরতা, টপ অর্ডারের স্থিতিশীলতা এবং বোলিং আক্রমণের কার্যকারিতা যাচাইয়ের একটি সফল অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ‘এ’ দলের একতরফা জয় ভবিষ্যৎ সিরিজের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।