মিনেসোটায় ট্রাম্পের অভিযানে বড় রদবদল

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের নেতৃত্বে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মিনিয়াপোলিসকে কেন্দ্র করে পরিচালিত ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর প্রধান মুখ ও বর্ডার পেট্রল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনোকে কার্যত সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার তিনি তাঁর সঙ্গে থাকা একদল ফেডারেল এজেন্ট নিয়ে রাজ্য ছাড়ছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিযানের সময় দ্বিতীয়বারের মতো একজন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যা প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক ও জনমতের চাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৫৫ বছর বয়সী বোভিনোকে তাঁর জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘কমান্ডার অ্যাট লার্জ’ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ক্যালিফোর্নিয়ার যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো সীমান্তে তাঁর আগের দায়িত্বে, অর্থাৎ প্রধান পেট্রল এজেন্ট হিসেবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট নেতা, নাগরিক অধিকার সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই বোভিনোর কড়া কৌশল, বিতর্কিত বক্তব্য এবং অভিযানের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে আসছিলেন।

এই রদবদলের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি তাঁর ‘বর্ডার জার’ টম হোম্যানকে মিনেসোটায় পাঠাচ্ছেন। হোম্যান সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছে রিপোর্ট করবেন এবং চলমান অভিযানের সার্বিক তদারকি করবেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর উদ্দেশ্য হলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, ফেডারেল ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং উত্তেজনা প্রশমিত করা।

পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেটির গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রেটির হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না—ছিল শুধু একটি মুঠোফোন। অথচ ঘটনার পর বোভিনো দাবি করেছিলেন, প্রেটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই বক্তব্য দ্রুতই প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং প্রশাসনের ভেতরেও সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে হোয়াইট হাউস সংবাদ সম্মেলনে প্রেটির মৃত্যুকে ‘দুঃখজনক’ বলে আখ্যা দেয় এবং তদন্তের আশ্বাস দেয়।

এ ঘটনায় ট্রাম্প মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালৎস ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এর আগে তিনি রাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বকে বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী করলেও, সাম্প্রতিক আলোচনার পর তাঁর বক্তব্যের সুর কিছুটা নরম হয়েছে। গভর্নর ওয়ালৎস জানিয়েছেন, ট্রাম্প ফেডারেল এজেন্টের সংখ্যা কমাতে এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন।

বোভিনোর বিদায়ের খবরে রাজ্যের রাস্তায় বিক্ষোভ থামেনি। তিনি যে হোটেলে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে বিক্ষোভকারীরা থালাবাসন পিটিয়ে ও বাঁশি বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতেও আদালতকে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এক ফেডারেল বিচারক বোভিনোকে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করেছিলেন, যা তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ

বিষয়তথ্য
অভিযানের নামঅপারেশন মেট্রো সার্জ
সরানো কর্মকর্তাগ্রেগরি বোভিনো
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তটম হোম্যান
নিহত ব্যক্তিঅ্যালেক্স প্রেটি (আইসিইউ নার্স)
প্রশাসনের সিদ্ধান্তফেডারেল উপস্থিতি কমানো ও সমন্বয় জোরদার

সার্বিকভাবে, মিনেসোটায় এই রদবদল ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে এক ধরনের কৌশলগত পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জনমত, রাজনৈতিক চাপ এবং আইনি ঝুঁকির মুখে প্রশাসন এখন আরও সংযত ও সমন্বিত পথে এগোতে চাইছে—যার বাস্তব ফলাফল আগামী দিনগুলোতেই স্পষ্ট হবে।