কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার অধ্যাপক মনজুরুল হক জানান, “হত্যাকাণ্ডের মামলায় নাম থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।”
বরখাস্তকৃতরা হলেন:
| নাম | পদবী | দায়িত্ব / বিভাগ |
|---|---|---|
| উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা | সহকারী রেজিস্টার | আয়েশা সিদ্দিকা হল |
| বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস | সহকারী অধ্যাপক | সমাজকল্যাণ বিভাগ |
| শ্যাম সুন্দর সরকার | সহকারী অধ্যাপক | সমাজকল্যাণ বিভাগ |
| হাবিবুর রহমান | কর্মকর্তা | বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন |
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন অধ্যাপক মিজানুর রহমান (হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগ)। সদস্য সচিব হয়েছেন একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্টার (শিক্ষা) গোলাম মওলা। কমিটিতে আরও রয়েছেন: বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা ড. ওবায়দুল ইসলাম, এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ড. গাজী আরিফুজ্জামান খান।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার দাবি করে আসমা সাদিয়ার চার সন্তান ও পরিবারের স্বজনরা রাস্তায় নেমে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন। গতকাল সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
সমাবেশে আসমার বড় সন্তান ইফফাত তায়্যিবা ইলমা বলেন, “রাতে মা আমাদের আদর করে ঘুম পাড়াতেন। এখন মা ছাড়া ছোট ভাইবোনেরা ঘুমাতে চায় না। আমরা চাই, মাকে হত্যাকারীদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি হোক।”
শিশুরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান করছিল, যার মধ্যে লেখা ছিল:
‘আমাদের মাকে ফিরিয়ে দাও’
‘মা-হারা আমরা চার ভাইবোন’
শিশুদের সঙ্গে ছিলেন নানা শফিকুল ইসলাম, বাবা ইমতিয়াজ সুলতান এবং অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা। ছোট দুই শিশুকে স্বজনের কোলে রাখা হয়েছিল।
উল্লেখযোগ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে ১৫ দিনের আলটিমেটামসহ স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। তাদের দাবি ছিল:
১৫ দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিচারের ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন।
পরিবারের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে চার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ।
পরিবারের সদস্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্য সুবিধার আওতায় আনা।
শিক্ষিকার স্মৃতি রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামকরণ।
ন্যায়সঙ্গত অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের এই তীব্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটিতে ন্যায়বিচারের দাবিকে আরও জোরদার করেছে। হত্যাকাণ্ডের সত্যতা উদঘাটন ও দ্রুত বিচারের আশ্বাস এখনও সকলের মধ্যে উত্তেজনা এবং প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
