দ্বিতীয়বার অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্বে বাংলাদেশের যুবফুটবল দল দেশে ফিরেই উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর দলটি বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে হাতিরঝিলের এম্ফিথিয়েটারে আনা হয়। সেখানে এক জমকালো অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের সম্মান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও বিশেষ ঘোষণা দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে। চ্যাম্পিয়ন ফুটবলারদের জন্য মাসিক ১ লাখ টাকা করে বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এটি যুবদের প্রতি সরকারী স্বীকৃতির পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের জন্য এককালীন ১ লাখ টাকা করে এবং কর্মকর্তাদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। এছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা আর্থিক এবং সম্মানসূচক পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আمینুল হক বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা নির্দিষ্ট অর্থ ঘোষণা করিনি। আজ জাতীয় ক্রীড়া দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত পুরস্কারের ঘোষণা করা হলো। খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ কিছু থাকছে।” এরপরই তিনি চ্যাম্পিয়নদের জন্য মাসিক লাখ টাকার বেতন ঘোষণা করেন।
এবারের অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নরা কেবল মাঠের কৃতিত্বেই নয়, আর্থিকভাবে এবং সামাজিক স্বীকৃতিতেও বড় প্রাপ্যতা পেল। বিশেষ করে এই ধরনের নিয়মিত বেতন ভবিষ্যতের ফুটবল খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার কাজ করবে।
নিচের টেবিলে সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের অর্থ ও পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| পুরস্কারের ধরন | খেলোয়াড় | কর্মকর্তা / কোচিং স্টাফ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| এককালীন বাফুফে পুরস্কার | ১ লাখ টাকা | ৫০ হাজার টাকা | চ্যাম্পিয়ন অর্জনের জন্য প্রদান |
| ডিএনসিসি পুরস্কার | আলাদা আর্থিক ও সম্মানসূচক | আলাদা আর্থিক ও সম্মানসূচক | স্থানীয় পুরস্কার, নগর কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে |
| মাসিক বেতন | ১ লাখ টাকা | – | সরকারি ঘোষণা, নিয়মিত প্রদেয় |
এই উদ্যোগ যুব ফুটবলের প্রতি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের আর্থিক সহায়তা ও স্বীকৃতি বাংলাদেশের ফুটবল প্রতিভাদের জন্য বড় উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী দল গঠনে সহায়ক হবে।
মোট কথায়, দেশের যুব ফুটবল দল কেবল খেতাব জয়েই নয়, আর্থিক স্বীকৃতি ও সামাজিক সম্মান অর্জন করেও একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
