মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপো ১৮ জন বাংলাদেশিসহ মোট ২০১ অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সোমবার, ১২ জানুয়ারি সম্পন্ন হয়েছে। জোহর রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন বছরের শুরুতেই বিদেশি বন্দিদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ১৬০ জন ইন্দোনেশিয়া, ১৮ জন বাংলাদেশ, ১৩ জন পাকিস্তান, ৪ জন কম্বোডিয়া এবং ৩ জন করে ভারত ও সিঙ্গাপুরের নাগরিক রয়েছেন। সকল বন্দিকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (KLIA-1 ও KLIA-2) এবং স্টুলাং লাউট ফেরি টার্মিনাল ব্যবহার করে তাদের নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ আরও জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের পর সকলকে সিস্টেমে ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে। এর অর্থ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা মালয়েশিয়ায় কোনো উদ্দেশ্যেই পুনঃপ্রবেশ করতে পারবে না। এভাবে, দেশটির আইন ও অভিবাসন নীতি কার্যকর রাখা হচ্ছে।
দেশে ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের বিস্তারিত
| দেশের নাম | প্রত্যাবাসিত সংখ্যা |
|---|---|
| ইন্দোনেশিয়া | 160 |
| বাংলাদেশ | 18 |
| পাকিস্তান | 13 |
| কম্বোডিয়া | 4 |
| ভারত | 3 |
| সিঙ্গাপুর | 3 |
| মোট | 201 |
পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোর প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে বন্দি প্রত্যাবাসন অন্যতম। জোহর রাজ্য ইমিগ্রেশন নিয়মিত এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে, যাতে সাজা সম্পন্ন বন্দিরা দেশে অবৈধভাবে অবস্থান না করতে পারে এবং ডিটেনশন ডিপোতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়।
প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম ডিপোতে থাকা নির্ধারিত সার্ভিস কাউন্টার থেকে পরিচালিত হয়। এতে কোনো অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ নেই, এবং মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবহার নিষিদ্ধ। যেকোনো তথ্য বা জিজ্ঞাসার জন্য পেকান নেনাস ডিপোর রেকর্ডস ও ট্রান্সফার ইউনিট (ফোন: ০৭-৬৯৯৩৫৪০) অথবা অনলাইন অনুসন্ধান সিস্টেম (SPO) ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের একটি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন কার্যকর ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, “যে কোনো বিদেশি যারা দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছে বা সাজা সম্পন্ন করেছে, তাদের প্রত্যাবাসন আমাদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। এটি কেবল আইন মেনে চলার বিষয় নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
জোহর রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগ আশা করছে, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের দেশীয় আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা যাবে। এর পাশাপাশি, প্রত্যেক বন্দি ও তাদের দেশে ফেরত প্রেরণের সময় মানবিক দিকও নিশ্চিত করা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি বজায় থাকে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও প্রত্যাবাসন কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। এতে বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ অবস্থান নিয়ন্ত্রণ, ডিটেনশন ডিপোর চাপ কমানো এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ফেরত প্রেরণের মাধ্যমে মালয়েশিয়া তাদের আইনশৃঙ্খলা ও অভিবাসন নীতি আরও দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করছে।
এভাবে, ২০১ জন অভিবাসী প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়ে জোহর রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগ নিজ দায়িত্ব ও দেশের নিরাপত্তা সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে।
